ফ্রান্সে কৌশলগত কূটনীতি
জেনেভা / ওয়াশিংটন — २०२৬ সালের শুরুর দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান তাদের কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ করতে, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় চালু করতে এবং তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের পথ তৈরি করতে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে।
রবিবার ঘোষিত এই ১.৫ পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারকে (MOU) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে, যার পাশাপাশি একটি স্থায়ী ও ব্যাপক চুক্তির বিষয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা শুরু হবে। মার্কিন উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সের মতে, এই ঐতিহাসিক নথিতে ইতিমধ্যেই উভয় দেশ ডিজিটালভাবে স্বাক্ষর করেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা এই শুক্রবার জেনেভায় একটি আনুষ্ঠানিক, মুখোমুখি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সমবেত হতে চলেছেন।
শান্তির রূপরেখা: হরমুজ উন্মুক্ত এবং অবরোধ প্রত্যাহার
দুর্ঘটনার বিবরণ
এই চুক্তির তাৎক্ষণিক এবং সবচেয়ে প্রত্যক্ষ বৈশ্বিক প্রভাব হলো হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা। এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি—যা বিশ্বের প্রায় ২০% পেট্রোলিয়াম এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবহনের জন্য দায়ী—২৮ ফেব্রুয়ারি, २०२৬-এ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কর্তৃক অবরুদ্ধ করা হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে একটি নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট তৈরি করে।
নতুন চুক্তির শর্তাবলীর অধীনে:
- সামুদ্রিক স্বাধীনতা: ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ শেষ হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে আবারও হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে অবাধে, টোল-মুক্ত যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া होगा।
- ৬০ দিনের সময়সীমা: ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং ইউরেনিয়াম মজুদের জটিল বিবরণগুলো সমাধানের লক্ষ্যে একটি ব্যাপক চুক্তির খসড়া তৈরি করতে শুক্রবারের অনুষ্ঠানের ঠিক পরেই ৬০ দিনের একটি আনুষ্ঠানিক প্রযুক্তিগত আলোচনার মেয়াদ শুরু হবে।
- শত্রুতার অবসান: মধ্যস্থতাকারীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই চুক্তি সমস্ত আঞ্চলিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানায়।
মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের বিতর্ক: বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক স্বস্তি
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
এই চুক্তির খবরের পর বৈশ্বিক আর্থিক বাজার চাঙ্গা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক তেলের দাম ৫%-এর বেশি হ্রাস পেয়েছে, তবে চুক্তিটি বাস্তবায়নের (Implementation) বিশদ বিবরণ নিয়ে এখনও তীব্র উত্তেজনা রয়েছে। অর্থনৈতিক স্বস্তি পাওয়ার সময়সীমা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইতিমধ্যেই এক ধরনের বয়ান যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আক্রমণাত্মকভাবে দাবি করেছে যে এই চুক্তি দীর্ঘদিনের বাজেয়াপ্ত (ফ্রিজ) থাকা $২৪ বিলিয়ন মূল্যের ইরানি বৈদেশিক সম্পদ অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয় এবং তাদের মতে, প্রযুক্তিগত আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই অর্ধেক অর্থ ($১২ বিলিয়ন) অবমুক্ত করতে হবে।
তবে উপ-রাষ্ট্রপতি जेডি ভ্যান্স এবং ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা এই দাবি খণ্ডন করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এখন পর্যন্ত “শূন্য” সম্পদ মুক্তি দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউস জোর দিয়ে বলেছে যে, বিশ্বাস গঠনের লক্ষ্যে “সামান্য পদক্ষেপ” হিসেবে সম্পত্তি অবমুক্ত করা এবং পর্যায়ক্রমে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনার মধ্যে থাকলেও, ইরান যতক্ষণ না পারমাণবিক পরিদর্শনের নিয়ম সম্পূর্ণ মেনে চলছে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গ্রুপগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো বড় তহবিল তাদের দেওয়া হবে ना।
একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি: ইসরায়েলের অনিশ্চিত অবস্থান
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্ব এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছ থেকে এই চুক্তির ব্যাপক আন্তর্জাতিক প্রশংসা সত্ত্বেও, আসন্ন জেনেভা সম্মেলনটি বড় ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন।
প্রধান ভূ-राजनीतिक বাধাটি আসছে জেরুজালেম (ইসরায়েল) থেকে। যদিও পাকিস্তানি এবং কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন যে এই শান্তি চুক্তি লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়, তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইসরায়েলি নেতৃত্ব মনে করে যে তাদের দেশ ওয়াশিংটন-तेहरान চুক্তির শর্তে বাধ্য নয় এবং তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অনির্দিষ্টকালের लिए চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা এই ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বের ওপর একটি অনিশ্চিত কালো ছায়া ফেলেছে।
ভবিষ্যতের রূপরেখা কী?
সুইজারল্যান্ডে শুক্রবারের আনুষ্ঠানিক সম্মেলনের আগে পদ্ধতিগত মতপার্থক্যগুলো দূর করতে এই সপ্তাহে কাতারের দোহায় উভয় পক্ষের প্রাথমিক প্রতিনিধিদল বৈঠক করছে। বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের জন্য, জেনেভা শীর্ষ সম্মেলनों চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করবে এই ১.৫ পৃষ্ঠার রূপরেখাটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তব সামরিক পরিস্থিতির মধ্যে নিজেকে কতটা টিকিয়ে রাখতে পারে তার ওপর।

