নতুন দিল্লি — পুনর্নির্ধারিত নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET-UG 2026) মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও ত্রুটিহীনভাবে পরিচালনা করতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) শনিবার দেশজুড়ে হাজার হাজার কেন্দ্রে একটি বিশাল মক ড্রিল সম্পন্ন করেছে।
এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষাটি আগামী রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ তারিখে অফলাইন (পেন-এন্ড-পেপার) মোডে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। পরীক্ষার জন্য ২২.৭৯ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী নাম নথিভুক্ত করেছেন, যারা দেশের ৫৫১টি শহরে এবং বিদেশের ১৪টি শহরে তৈরি মোট ৫,৪৪০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসবেন। পরীক্ষার বিশ্বস্ততা ও শুচিতা বজায় রাখতে কেন্দ্র সরকার এবং এনটিএ এবার একটি অভেদ্য নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করেছে।
অভেদ্য নিরাপত্তা কৌশল: ২ লাখেরও বেশি কর্মী মোতায়েন
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিবরণ
শনিবার সকাল ৯:০০ টা থেকে গভীর সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই মक ড্রিলের উদ্দেশ্য ছিল বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশন, সিগন্যাল জ্যামিং এবং প্রশ্নপত্র সুরক্ষিতভাবে কেন্দ্রে পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়াটি পরীক্ষা করা।
পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম রুখতে এক বিশাল বাহিনী নামানো হয়েছে:
- মানবসম্পদ: স্থানীয় পুলিশ বাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং বিশেষ নিরাপত্তা দলসহ ২ লাখেরও বেশি কর্মী সরাসরি ময়দানে নিয়োজিত আছেন।
- কঠোর নজরদারি: ৯৫,০০০-এরও বেশি পরীক্ষা কক্ষের প্রতিটিতে দুজন করে পরিদর্শক (Invigilators) থাকবেন এবং প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ১০ জন অতিরিক্ত প্রশাসনিক কর্মী সহায়তা করবেন।
- স্বাধীন পর্যবেক্ষণ: স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৬,৭০০-এরও বেশি স্বাধীন পর্যবেক্ষক, ১০০-রও বেশি ভার্চুয়াল কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক এবং ৬৭৪ জন শহর সমন্বয়কারী নিযুক্ত করা হয়েছে।
অসাধু উপায় প্রতিরোধের প্রযুক্তি: ১.৩৮ লাখ সিসিটিভি এবং ৫১,০০০ জ্যামার
নকল প্রতিরোধের উপায়
ডিজিটাল যোগাযোগ ও ভুয়ো পরীক্ষার্থী (Impersonation) সেজে পরীক্ষা দেওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি নির্মূল করতে এনটিএ এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে:
- লাইভ মনিটরিং: সমস্ত পরীক্ষা কক্ষে রেকর্ড সংখ্যার ১,৩৮,৫৬০টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এআই-assisted সিস্টেমের মাধ্যমে জাতীয়, রাজ্য এবং মন্ত্রক স্তরে এর লাইভ ফিড পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
- সিগন্যাল ব্ল্যাকআউট: ব্লুটুথ বা ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে টুকলি রোখার জন্য ডিফেন্স পিএসইউ (ECIL ও BEL) দ্বারা সরবরাহকৃত ৫১,৩১১টি সিগন্যাল জ্যামার পরীক্ষা করে সফলভাবে মোতায়েন করা হয়েছে।
- কঠোর তল্লাশি: মেটাল ডিটেক্টরসহ ৩৮,৭৯৫ জন তল্লাশিকারী কর্মী এবং আধার-ভিত্তিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস অথেন্টিকেশনের জন্য ৪৮,৪৪৮ জন বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ কর্মী নিয়োজিত করা হয়েছে।
- ডিজিটাল নিষেধাজ্ঞা: পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভুয়ো খবর বা গুজব ছড়ানো রুখতে সরকার মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের ওপরও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশিকা: সময় ও ড্রেস কোড
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা
এনটিএ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, দেরিতে পৌঁছালে বা নিয়ম লঙ্ঘন করলে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পরীক্ষার্থীদের এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে:
১. সময়ের ওপর বিশেষ নজর
- রিপোর্টিং সময়: সকাল ১১:০০ টা থেকে দুপুর ১:३० টা পর্যন্ত।
- গেট বন্ধের সময়: দুপুর ১:३० টা ঠিক। এরপর কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
- পরীক্ষার সময়সীমা: দুপুর ২:০০ টো থেকে বিকেল ৫:১৫ টা পর্যন্ত (১৯৫ মিনিট)।
২. প্রয়োজনীয় নথিপত্র
নিম্নলিখিত নথিগুলোর প্রিন্টেড বা আসল কপি সাথে না থাকলে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না:
- অ্যাডমিট কার্ড: অফিশিয়াল পোর্টাল থেকে ডাউনলোড করা আপডেটেড নিট-ইউজি ২০২৬ রি-এক্সামিনেশন অ্যাডমিট কার্ডের স্পষ্ট প্রিন্ট আউট।
- বৈধ ফটো আইডি: আসল সরকারি পরিচয়পত্র (আধার, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট বা ভোটার আইডি)। ডিজিটাল আইডি গ্রহণযোগ্য নয়।
- পাসপোর্ট ছবি: উপস্থিতিপত্রে (Attendance Sheet) লাগানোর জন্য দুটি সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
৩. পোশাক বিধি এবং নিষিদ্ধ তালিকা
- ড্রেস কোড: পরীক্ষার্থীদের চটি বা কম হিলের স্যান্ডেল পরতে হবে। জুতো, বুট, হাই হিল এবং ভারী ধাতব গয়না সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঐতিহ্যবাহী বা ধর্মীয় পোশাক (যেমন হিজাব বা পাগড়ি) পরিহিতদের সকাল ১১:০০ টার মধ্যেই রিপোর্ট করতে হবে যাতে তাঁদের যথাযথভাবে নিরাপত্তা পরীক্ষা করা যায়।
- অনুমোদিত জিনিস: শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ পানির বোতল ভেতরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে। ব্যাগ, মানিব্যাগ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং কোনো স্টেশনরি সামগ্রী নেওয়া যাবে না।

