ওয়াশিংটন — মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা যদি ব্যর্থ হয়, তবে তিনি ইরানকে “পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেবেন” (blow the hell out of)। রবিবার প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি এবং পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়ে ওয়াশিংটন কোনো রকম আপস করবে না।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি আছি, কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হলে আমি তাদের উড়িয়ে দেব।” তিনি তেহরানকে কোনো প্রাথমিক ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানান। ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে আমেরিকা ইরানের অবরুদ্ধ (ফ্রিজ করা) শত কোটি ডলারের তহবিল মুক্ত করবে না বা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে না। তিনি বলেন, “তারা যদি ভালো আচরণ করে, তবেই চুক্তি পরবর্তী সময়ে এসব নিয়ে কথা হবে।”
অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন ট্রেজারি ইরানের এই অবরুদ্ধ অর্থ দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর (Gulf states) ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
ইউরেনিয়াম এবং লেবানন প্রসঙ্গে ট্রাম্পের অবস্থান
চুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মার্কিন গোয়েন্দারা ঠিক জানে এই ইউরেনিয়াম কোথায় রাখা আছে। তিনি বলেন, “যদি চুক্তি হয়, তবে আমরা বন্ধুত্বপূর্ণভাবে একসাথে গিয়ে ওই ইউরেনিয়াম বের করে এনে ধ্বংস করব।” তবে কূটনীতি ব্যর্থ হলে মার্কিন সেনা পাঠানো হবে কিনা, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
লেবানন প্রসঙ্গে ট্রাম্প ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও “সার্জিক্যাল” বা নিখুঁত আক্রমণ চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার মধ্যে ট্রাম্প বলেন, “আমি হিজবুল্লাহর ওপর আরও সুনির্দিষ্ট হামলা দেখতে চাই, যাতে লেবাননের সাধারণ মানুষ উন্নত জীবন পেতে পারে।” ট্রাম্প লেবানন সংকটকে ইরানের মূল চুক্তি থেকে আলাদা রাখতে চান, যদিও তেহরান এই দুটিকে একসাথে যুক্ত করতে আগ্রহী।

