নতুন দিল্লি / আগরতলা
উত্তর-পূর্ব ভারতের কৃষিক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী বিপ্লবের সূচনা ঘটল। ত্রিপুরার বিশ্ববিখ্যাত এবং জিআই-ট্যাগপ্রাপ্ত (GI-tagged) ‘কুইন আনারস’-এর উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিপণনের লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে চালু করল ‘মিশন কুইন পাইনঅ্যাপেল, ত্রিপুরা’। তিন বছরের (অর্থবর্ষ ২০২৬ থেকে ২০২৮) এই মহাপরিকল্পনার মোট বাজেট ধরা হয়েছে ২৩৬ কোটি টাকা।
নতুন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন (DoNER) মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা এবং রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথের উপস্থিতিতে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
চাষিদের আর্থিক বঞ্চনার অবসান: খামার থেকে গ্লোবাল মার্কেট
ত্রিপুরার পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ আবহাওয়া কুইন আনারস চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যা মূলত রাজ্যের উপজাতি সম্প্রদায়ের চাষিরা উৎপাদন করেন। এই আনারসের অনন্য সুগন্ধ, উজ্জ্বল সোনালী রঙ, কম ফাইবার এবং মিষ্টি-টক স্বাদের ভারসাম্য একে বিশ্বের অন্যান্য জাতের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
কিন্তু পরিকাঠামোর অভাব ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থা না থাকায় চাষিরা বর্তমানে মাত্র ৬ থেকে ১০ টাকা প্রতি কেজি দরে এই প্রিমিয়াম ফল বিক্রি করতে বাধ্য হন, যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রক্রিয়াজাত বা রপ্তানিযোগ্য কুইন আনারসের দাম ৮০ থেকে ১৫০ টাকা প্রতি কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
এই ব্যবধান দূর করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া একটি আধুনিক “হাব অ্যান্ড স্পোক” (Hub & Spoke) মডেলের ঘোষণা করেছেন। আগরতলা বিমানবন্দরের কাছে একটি মূল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র বা ‘হাব’ তৈরি হবে এবং প্রধান আনারস উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলিতে ৮টি সংগ্রহ কেন্দ্র বা ‘স্পোক’ থাকবে। এগুলি ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর-কোড প্রযুক্তিসম্পন্ন হবে। এর সাথে বন্ধ থাকা ঐতিহ্যবাহী ‘নালকাটা আনারস প্রসেসিং ইউনিট’-কেও নতুন করে চালু করা হচ্ছে।
বর্জ্য থেকে বিপুল সম্পদ: ১,৪৮৩ কোটি টাকার পাতার অর্থনীতি
দুবাই, কাতার, জার্মানি বা রাশিয়ায় আনারস রপ্তানি করার পাশাপাশি এই মিশন আনারসের বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করবে। রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ জানান, আনারস কাটার পর যে পাতাগুলি চাষিরা ফেলে দেন, সেগুলির বাণিজ্যিক বাজারমূল্য প্রায় ১,৪৮৩ কোটি টাকা। মিশন কুইন পাইনঅ্যাপেলের অধীনে এই পাতা থেকে মূল্যবান ‘ব্রোমেলেন’ (Bromelain) উৎসেচক নিষ্কাশন এবং আনারস লিফ ফাইবার (PALF) বা সুতো তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হবে। এর ফলে উপজাতি নারী স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHGs) ও গ্রামীণ যুবকদের কর্মসংস্থানের বিপুল সুযোগ তৈরি হবে।

