গ্যাংটক:
চলতি মরসুমে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম সেরা পাহাড়ি রাজ্য সিকিমে কার্যত পর্যটকদের রেকর্ড ভাঙা ঢল নেমেছে। সিকিম পর্যটন দপ্তরের (Tourism Department) দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাত্র সাত দিনে ২ লক্ষেরও বেশি পর্যটক সিকিমে পা রেখেছেন। রাজ্যের চারটি জেলার সমস্ত নামী পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে এখন থিকথিক করছে ভিড়।
ছাঙ্গু লেক ও নাথুলা রুটে উপচে পড়া ভিড়
পাহাড়ি গিরিপথ এবং বরফ ঘেরা স্পটগুলির দিকেই পর্যটকদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে:
- ৩য় মাইল চেক পোস্ট: গত এক সপ্তাহে এই চেক পোস্টটি দিয়ে মোট ৮,৩২১টি পর্যটক বোঝাই গাড়ি যাতায়াত করেছে। এই রুট ধরে প্রায় ৪০,১৩০ জন পর্যটক বিখ্যাত ছাঙ্গু লেক (Tsomgo Lake) এবং ভারত-চীন সীমান্তের নাথুলা পাস ভ্রমণ করেছেন।
- রংলি করিডোর: বিকল্প পথ হিসেবে রংলি রুটেও গাড়ির চাপ ব্যাপক বেড়েছে। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে ১,০০০-এর বেশি গাড়ি যাতায়াত করছে এবং গত এক সপ্তাহে কেবল এই পথেই ২০,০০০-এর বেশি পর্যটক ছাঙ্গু ও নাথুলা অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
সিকিমের চার প্রান্তেই তিল ধারণের জায়গা নেই
পূর্ব সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকের এমজি মার্গ (MG Marg), ছাঙ্গু লেক ও নাথুলা এলাকা এখন পুরোপুরি জনসমুদ্র। অন্যদিকে, দক্ষিণ সিকিমের বিখ্যাত তেমি চা বাগান (Temi Tea Garden) এবং রাবং-এর বুদ্ধ পার্কেও ভিড় জমিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
উত্তর সিকিমের লাচুং এবং য়ুমথাং ভ্যালি বরাবরই রোমাঞ্চপ্রিয় মানুষদের প্রথম পছন্দ, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পাশাপাশি পশ্চিম সিকিমের পেলিং এবং ইয়ুকসোমের মতো ঐতিহাসিক এলাকাগুলিতেও পর্যটকদের সমাগম এক ধাক্কায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যবসার সুদিন, কিন্তু চিন্তায় ফেলছে ‘ট্রাফিক জ্যাম’
পর্যটনের এই বিপুল জোয়ারে রাজ্যের হোটেল ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটর ও স্থানীয় গাড়ি চালকদের পকেটে লক্ষ্মীলাভ হলেও, সিকিমের পাহাড়ি পরিকাঠামোর ওপর এর বড় প্রভাব পড়েছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পর্যটকেরা সিকিমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধতা প্রকাশ করলেও, যানজট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলির দিকে যাওয়ার সরু পাহাড়ি রাস্তাগুলিতে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে, যা এই মুহূর্তে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের জন্য একটি মস্ত বড় পরীক্ষা।

