চুমৌকেদিমা, নাগাল্যান্ড:
নাগাল্যান্ডের চুমৌকেদিমা (Chumoukedima) জেলার অন্তর্গত তৌলাজৌমা (Toulazouma) গ্রামে অত্যন্ত সংক্রামক আফ্রিকান সোয়াইন ফিভার (ASF)-এর প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই মারাত্মক ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে জেলা প্রশাসন অবিলম্বে কড়া কন্টেনমেন্ট বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করেছে।
চুমৌকেদিমা জেলার ডেপুটি কমিশনার পোলান জন কর্তৃক জারি করা একটি নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল থেকে এলাকাটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
- ইনফেক্টেড জোন (সংক্রমিত এলাকা): সংক্রমণের মূল কেন্দ্র থেকে ১ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যবর্তী এলাকাকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ বা ‘সংক্রমিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- সার্ভিল্যান্স জোন (নজরদারি এলাকা): মূল কেন্দ্র থেকে চারপাশের ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকাকে ‘নজরদারি এলাকা’র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মাংস বিক্রি ও পরিবহনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
ভাইরাসের সংক্রমণ শৃঙ্খল ভাঙতে, বিজ্ঞাপিত এলাকার ভেতরে এবং বাইরে শুকর, শুকরের মাংস (Pork), মাংসজাত পণ্য, পশুখাদ্য এবং এই সংক্রান্ত সমস্ত সামগ্রীর পরিবহন ও যাতায়াত সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই কন্টেনমেন্ট জোনে শুকর জবাই, মাংস বিক্রি এবং তা বিতরণ করার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খামারিদের জন্য বায়ো-সিকিউরিটি প্রোটোকল
মাঠে নেমে পরিস্থিতি তদারকি করতে ভেটেরিনারি (পশুচিকিৎসা) বিভাগকে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় উপদ্রুত অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ভিলেজ কাউন্সিল, জিবি (GBs), ওয়ার্ড কর্তৃপক্ষ এবং মাংস ব্যবসায়ীদের এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শুকর খামারের মালিকদের খামারে বাইরের মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত করার পাশাপাশি নিয়মিত জীবনুনাশক (Disinfection) ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খামারে কোনো শুকরের অস্বাভাবিক অসুস্থতা বা মৃত্যু ঘটলে তা অবিলম্বে নিকটবর্তী ভেটেরিনারি অফিসে জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, মৃত শুকরের দেহাবশেষ ফেলার ক্ষেত্রে ভেটেরিনারি বিভাগ এবং ভারত সরকারের নির্দেশিত প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

