পরিকাঠামো উন্নয়নে সবুজ সংকেত
কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রকের উপদেষ্টা কমিটি পূর্ব ও উত্তর গারো পাহাড় জেলার ৩৪.৮৮ হেক্টর সংরক্ষিত বনাঞ্চলকে সড়ক প্রকল্পের জন্য ব্যবহারের প্রাথমিক অনুমতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (NHIDCO)-এর পক্ষে জাতীয় সড়ক ১২৭বি-এর ৩৬.৬৩৫ কিমি অংশকে পাকা শোল্ডার সহ দুই লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট, কনস্ট্রাকশন) মডেলে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি দারুগিরি-সংসাক-উইলিয়ামনগর জংশনকে সংযুক্ত করবে, যা পশ্চিম খাসি পাহাড় হয়ে শিলং-এর সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবে এবং দীর্ঘ গুয়াহাটি রুটটিকে এড়িয়ে চলবে।
পরিবেশগত प्रभाव এবং বন্যপ্রাণের উপস্থিতি
যোগাযোগ ব্যবস্থার এই উন্নতির পাশাপাশি বনাঞ্চলের পরিবেশগত ক্ষতিও নিশ্চিত, কারণ এই চত্বরের ৪,৪৪৪টি গাছ কেটে ফেলার প্রয়োজন হবে। মন্ত্রকের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী, এই অঞ্চলটি অত্যন্ত ঘন ইকো ক্লাস-১ বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। সংগৃহীত তথ্য বলছে, কাটা পড়তে চলা গাছগুলির মধ্যে ২,৯৬৬টি গাছের পরিধি ৬০ সেমির বেশি এবং ১,৪৭৮টি গাছের পরিধি ৬০ সেমির কম। বন দপ্তরের পেশ করা রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এই অরণ্য বার্কিং ডিয়ার (মায়া হরিণ), চিতাবিড়াল, মালয়েন জায়ান্ট কাঠবিড়ালি, বুনো শুয়োর এবং গুই সাপ সহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণের বাসস্থান। তবে প্রকল্প এলাকার ১০ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো সুরক্ষিত বনাঞ্চল বা ঐতিহাসিক ঐতিহ্যবাহী স্থান নেই।
অর্থনৈতিক সুবিধা এবং ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন
রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, এই রাস্তাটি তৈরি হলে শিলং এবং উইলিয়ামনগরের মধ্যে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে যাবে। গুয়াহাটির দীর্ঘ পথ এড়ানোর ফলে এই সড়কটি আঞ্চলিক পর্যটন, স্থানীয় শিল্প এবং কৃষিজাত পণ্য দ্রুত পরিবহনে বিশেষ সহায়ক হবে। বনাঞ্চলের এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার অধীনে ডাম্বো রংজেং ব্লকের দগল বলমেদাং গ্রামে ৩৪.৮৮৭৭ হেক্টর অ-বনভূমিতে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন (Compensatory Afforestation) সম্পন্ন করা হবে।

