নিউ ইয়র্ক, ২ জুন ২০২৬ — ২০২৬ সালের নিউ ইয়র্ক ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে (NYIFF) এক অভূতপূর্ব আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করল মণিপুরি সিনেমা। উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘বুং’ (Boong) তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা নিজেদের ঝুলিতে পুরে নিয়েছে।
ইন্দো-আমেরিকান আর্টস কাউন্সিল (IAAC) আয়োজিত এই চার দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসবটি রবিবার শেষ হয়েছে। এই বছরের উৎসবে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ১৫টি ভাষার ১৯টি ফিচার ফিল্ম, ৪টি ডকুমেন্টারি এবং ২৭টি শর্ট ফিল্ম প্রদর্শিত হয়েছিল। গত ২৯ মে ‘বুং’ ছবিটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই সফল উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
‘বুং’ চলচ্চিত্রের ত্রিমুকুট লাভ
চলচ্চিত্র সমালোচক এবং বিচারকমণ্ডলী ‘বুং’ ছবিটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, যা বিশ্বমঞ্চে আঞ্চলিক চলচ্চিত্রের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে:
- সেরা পরিচালক (Best Director): চলচ্চিত্র নির্মাতা লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী তাঁর অসাধারণ পরিচালনার জন্য ‘সেরা পরিচালক’-এর ট্রফি লাভ করেছেন।
- সেরা শিশু অভিনেতা (Best Child Actor): ছবির মূল খুদে চরিত্র গুগুন কিপগেন তার অনবদ্য অভিনয়ের জন্য ‘সেরা শিশু অভিনেতা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- সেরা নবাগত চলচ্চিত্র (Best Debut Film): উৎসবের সমালোচক প্যানেল (Critics’ Panel) ‘বুং’ ছবিটিকে এই সংস্করণের ‘সেরা নবাগত চলচ্চিত্র’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
NYIFF ২০২৬-এর অন্যান্য প্রধান পুরস্কার বিজয়ীরা
উৎসবের সমাপনীতে অন্যান্য বিভাগেও সেরা প্রতিভাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে:
- সেরা অভিনেতা: Vinnukut চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য নিখিল বৈদ্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন।
- সেরা অভিনেত্রী: এই পুরস্কারটি যৌথভাবে তিনজনের মধ্যে ভাগ করা হয়েছে—মীনাক্ষী জয়ন (Mahajan ছবির জন্য), ভিক্টোরিয়া থেক (তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য) এবং প্রাজক্তা দেশমুখ (Tighee ছবির জন্য)।
- ডকুমেন্টারি ও শর্ট ফিল্ম: নন-ফিকশন বিভাগে Deja Vu সেরা ডকুমেন্টারি ফিচারের পুরস্কার জিতেছে এবং Jo’s Turn সেরা ন্যারেটিভ শর্ট ফিল্ম নির্বাচিত হয়েছে।
আঞ্চলিক সিনেমার ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক আবেদন
উৎসবের উদ্যোক্তারা উল্লেখ করেছেন যে, ১৫টি ভারতীয় ভাষার চলচ্চিত্রের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক সিনেমার বৈশ্বিক আবেদন দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয় সংস্কৃতি ও শেকড়ের গল্পগুলো এখন জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হচ্ছে।
কাউন্সিল সভাপতির মন্তব্য: ইন্দো-আমেরিকান আর্টস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্মল মট্টু উৎসবের গল্প বলার বৈচিত্র্যের প্রশংসা করে বলেন, প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলো যেমন একদিকে আধুনিক প্রজন্মের প্রাসঙ্গিক ভাবনাগুলোকে তুলে ধরেছে, ঠিক তেমনি নিজস্ব আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে গভীর সংযোগ বজায় রেখেছে।

