বিশ্বজুড়ে ক্রমশ বাড়তে থাকা অনিদ্রা এবং ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে মানুষ এখন নতুন প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। এই তালিকায় সবচেয়ে আধুনিক সংযোজন হলো “জিরো-গ্র্যাভিটি” (Zero-G) স্লিপিং পজিশন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) মূলত একে ‘নিউট্রাল বডি পজিশন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। মহাকাশে ভরহীন অবস্থায় নভোচারীদের শরীর যেভাবে ভেসে থাকে, এই শোয়ার ধরণটি ঠিক সেই বৈজ্ঞানিক ভারসাম্যকেই বিছানায় নকল করে।
কাজের প্রক্রিয়া ও বিজ্ঞান
সাধারণত সমতল বা ফ্ল্যাট বিছানায় শুলে মধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে আমাদের মেরুদণ্ড, কোমর এবং কাঁধে নির্দিষ্ট কিছু প্রেশার পয়েন্ট তৈরি হয়। জিরো-জি পজিশনে শরীরের ওপরের অংশ (মাথা ও বুক) এবং পা সামান্য উঁচুতে রাখা হয়। এর ফলে কোমর ও উরুর মাঝে প্রায় ১২০ ডিগ্রির একটি কোণ তৈরি হয় এবং হাঁটু দুটি সামান্য বাঁকানো থাকে। পা শরীরের হার্ট বা হৃদযন্ত্রের স্তরের চেয়ে সামান্য উপরে থাকায় পুরো শরীরের ওজন সমানভাবে বণ্টন হয়ে যায়, যা মেরুদণ্ডকে সম্পূর্ণ চাপমুক্ত করে।
ইতিবাচক প্রভাব (সুফল):
- কোমর ও পিঠের ব্যথা উপশম: এই ভঙ্গিমায় মেরুদণ্ডের ওপর থেকে সমস্ত মহাকর্ষীয় চাপ সরে যায়, যা ক্রনিক কোমর ব্যথা বা সায়াটিকার রোগীদের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক।
- অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালা রোধ (GERD): শরীরের ওপরের অংশ সামান্য উঁচুতে থাকায় পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠতে পারে না, ফলে রাতে অম্বল বা বুক জ্বালার সমস্যা কমে।
- নাক ডাকা এবং স্লিপ অ্যাপনিয়া বন্ধ: মাথা উঁচুতে থাকার কারণে শ্বাসনালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকে। এর ফলে নাক ডাকা এবং স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো মারাত্মক শ্বাসকষ্টের সমস্যা দূর হয়।
- রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি: পা সামান্য উঁচুতে থাকায় পা থেকে রক্ত সহজে হৃদপিণ্ডে ফিরে আসতে পারে, যা পায়ের ফোলা ভাব এবং ভ্যারিকোজ ভেইনের সমস্যা কমায়।
নেতিবাচক প্রভাব (কুফল):
- পাশ ফিরে শোয়ার সমস্যা: এই পজিশনটি শুধুমাত্র চিত হয়ে শোয়ার (Back Sleepers) জন্য উপযোগী। যারা পাশ ফিরে বা উপুড় হয়ে শুতে অভ্যস্ত, তাদের জন্য এই ভঙ্গি অত্যন্ত অস্বস্তিকর।
- অত্যধিক খরচ: নিখুঁত জিরো-গ্র্যাভিটি পজিশন পেতে গেলে ব্যয়বহুল মোটরাইজড ‘অ্যাডজাস্টেবল বেড’ বা বিশেষ খাটের প্রয়োজন হয়, যা সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে।
- গাঁটে বা জয়েন্টে টান: সারা রাত হাঁটু সামান্য বাঁকানো অবস্থায় থাকার কারণে বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পেশি বা জয়েন্টে সাময়িক শক্তভাব বা স্টিফনেস দেখা দিতে পারে।

