চ্যাংল্যাং / ইটানগর — ২৭ মে, ২০২৬
ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’-কে আরও শক্তিশালী করতে এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল অরুণাচল প্রদেশ সরকার। আগামী তিন বছরের মধ্যে ঐতিহাসিক ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য পথ (Indo-Myanmar border trade route) এবং সংশ্লিষ্ট পোর্ট বা কাস্টমস পরিকাঠামো সম্পূর্ণ সচল করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার, ২৭ মে ঐতিহাসিক ‘হেলগেট ব্রিজ’ (Hellgate Bridge) সংলগ্ন ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন (LCS) পরিদর্শনকালে রাজ্যের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী ন্যাতো দুকাম এই ঘোষণা দেন। এই সরকারি সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক লাইসাম সিমাই এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তাঁরা এই অঞ্চলের বর্তমান পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন এবং সীমান্ত বাণিজ্যের বিকাশ নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের পর তৎপরতা
এই কৌশলগত রুটের পুনরুজ্জীবন মূলত বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মহেন্দ্র পি. লামার নেতৃত্বাধীন ‘পাংসাউ পাস ট্রেড স্টাডি গ্রুপ’-এর জমা দেওয়া একটি বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্টের (DPR) ওপর ভিত্তি করে এগোচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু আগেই জানিয়েছেন যে, পাংসাউ পাস (মিয়ানমার সীমান্ত) এবং দংসেংমাং (ভুটান সীমান্ত) রুটগুলি চালু হলে অরুণাচল প্রদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার হয়ে উঠবে, যা স্থানীয় স্তরে পর্যটন, কর্মসংস্থান এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি করবে।
যুদ্ধের ‘হেল গেট’ থেকে আধুনিক বাণিজ্য কেন্দ্র
পটকাই পাহাড়ের ৩,৭২৭ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই পাংসাউ পাস এবং হেলগেট অঞ্চলের ইতিহাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অত্যন্ত দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে এই অঞ্চলকে “হেল গেট” বা নরকদ্বার বলা হতো, যা জেনারেল স্টিলওয়েলের তৈরি ঐতিহাসিক লেডো রোডের অংশ ছিল।
মন্ত্রী ন্যাতো দুকাম জানান, আগামী তিন বছরের রোডম্যাপে কাস্টমস পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ, ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্টের (ICP) সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং মায়ানমারের সাথে সুশৃঙ্খল বাণিজ্য প্রটোকল তৈরি করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে, যাতে দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেন কোনো বাধা ছাড়াই চলতে পারে।

