গুয়াহাটি — আসাম সরকার তার অন্যতম প্রধান গণবণ্টন কর্মসূচি “সাশ্রয়ী মূল্যে মসুর ডাল, চিনি এবং লবণ সরবরাহ” প্রকল্পটিকে আগামী দুই মাসের জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে, রাজ্যজুড়ে অত্যন্ত কম দামে দেওয়া এই তিনটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং খাদ্য, জনবণ্টন ও উপভোক্তা বিষয়ক দফতর স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্থগিতের মূল কারণ: ভোট অন অ্যাকাউন্ট (Vote-on-Account) বাজেট
এই সাময়িক স্থগিতাদেশটি সরাসরি রাজ্যের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক ব্যবস্থার সাথে যুক্ত। গত ফেব্রুয়ারিতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে, তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অজন্তা নেওগ অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় ও জনপরিষেবা সচল রাখতে ৬২,২৯৪.৭৮ কোটি টাকার একটি ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ বা লেখানুদান বাজেট পেশ করেছিলেন।
যেহেতু সেই অন্তর্বর্তী বাজেটের আর্থিক বরাদ্দ কেবল ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল, তাই এই নির্দিষ্ট ভর্তুকি প্রকল্পের তহবিল আপাতত শেষ হয়ে গেছে। রাজ্য সরবরাহ দফতরের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে যে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের সম্পূর্ণ বাজেট আগামী ২০২৬ সালের জুলাই মাসে নতুন সরকার পেশ করবে।
“নতুন সরকার জুলাই মাসে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে এবং তা পাস হওয়ার পর, আগামী আগস্ট মাস থেকে এই প্রকল্প আবার চালু হবে,” সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেশন কার্ড হোল্ডার এবং খোলা বাজারের দামের ওপর প্রভাব
এই সাময়িক স্থগিতাদেশের ফলে আসামের প্রায় ৭০ লক্ষ রেশন কার্ড হোল্ডারদের মাসিক বাজারের বাজেটে কিছুটা টান পড়তে চলেছে।
স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে আর্থিক স্বস্তি দেওয়ার জন্য চালু হওয়া এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের অধীনে, উপভোক্তারা অত্যন্ত কম মূল্যে নির্দিষ্ট মাসিক কোটায় এই পণ্যগুলো কিনতে পারতেন:
- মসুর ডাল: দেওয়া হতো মাত্র ৬০ টাকা প্রতি কেজি দরে।
- চিনি: দেওয়া হতো মাত্র ৩০ টাকা প্রতি কেজি দরে।
- লবণ: দেওয়া হতো মাত্র ১০ টাকা প্রতি কেজি দরে।
জুন এবং জুলাই মাসে এই ভর্তুকি বন্ধ থাকার কারণে, সুবিধাভোগী পরিবারগুলোকে এখন খোলা বাজার থেকে সাধারণ খুচরা মূল্যে এই জিনিসগুলো কিনতে হবে।
মজুত পণ্যের বণ্টন এবং বিনামূল্যে চাল সরবরাহ ব্যাহত হবে না
দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর এই সিদ্ধান্তের তাত্ক্ষণিক চাপ কমাতে সরকার স্থানীয় সমস্ত রেশন দোকান বা ন্যায্য মূল্যের (Fair Price) দোকানগুলোকে তাদের আগের মজুত পণ্য খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। মে মাসের বণ্টন চক্র থেকে যদি কোনো ডিলার বা রেশন দোকানে মসুর ডাল, চিনি বা লবণ উদ্বৃত্ত থাকে, তবে তারা জুন মাসে তা দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন।
সরকার জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, গণবণ্টন ব্যবস্থার (PDS) মূল অংশে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA) এবং প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনা (PMGKAY)-র অধীনে প্রতি মাসের বিনামূল্যে চাল দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে। এর ফলে রাজ্যের ২.৪৯ কোটিরও বেশি নাগরিকের মৌলিক খাদ্যশস্যের জোগান নিশ্চিত থাকবে।

