তদন্তে ক্রাইম ব্রাঞ্চের বড় সাফল্য
সীমান্ত পারের মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে এক বিরাট সাফল্য অর্জন করে, ত্রিপুরা পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার একটি বিশেষ আদালতে ছয়জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত চার্জশিট (আरोप पत्र) দাখিল করেছে। এই মামলাটি রাজ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম মাদক উদ্ধারের ঘটনার সাথে জড়িত—যেখানে প্রায় ১.০৭ লক্ষ বোতল নিষিদ্ধ কোডিন-যুক্ত ফেনসিডিল কফ সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। কালোবাজারে উদ্ধার হওয়া এই মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা।
এই আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য মাদক চক্রের গভীরতা বিবেচনা করে প্রথমে সরকারি রেল পুলিশ (GRP) এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) এই মামলার তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে পুরো নেটওয়ার্কের শিকড় খুঁজে বের করতে তদন্তের দায়িত্ব ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জিরানিয়া রেল স্টেশনের সেই মেগা অভিযান
এই চাঞ্চল্যকর মামলার সূত্রপাত হয়েছিল গত বছর অক্টোবর মাসে, যখন গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে ত্রিপুরার জিরানিয়া রেল স্টেশনে একটি আগরতলাগামী এক্সপ্রেস ট্রেনে তল্লাশি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। ট্রেনের মালবাহী কামরা ও বিভিন্ন গোপন অংশ থেকে এই বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
ভারতে কোডিন-ভিত্তিক কফ সিরাপের বাণিজ্যিক পরিবহনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, কারণ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এটি মাদক হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত অঞ্চলগুলি ব্যবহার করে এই নিষিদ্ধ সিরাপ প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
ধৃতদের তালিকা ও পলাতক মূল চক্রী
ক্রাইম ব্রাঞ্চ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের অর্থদাতা, সরবরাহকারী এবং স্থানীয় এজেন্টদের চিহ্নিত করে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে:
- স্থানীয় হ্যান্ডলার: আগরতলার বাসিন্দা রাজীব দাশগুপ্ত এবং পরিবহন ব্যবসায়ী অরুণ কুমার ঘোষ।
- বহিরাগত সরবরাহকারী: দিল্লি থেকে গ্রেফতার হওয়া হিমাংশু বাই ও সৌরভ ত্যাগী এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে ধৃত দীপ প্রকাশ গুপ্ত।
- পলাতক মূল খলনায়ক: সিপাহীজলা জেলার বক্সনগরের বাসিন্দা অপূর্ব রঞ্জন দাস, যে এই পুরো আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের মূল চালিকাশক্তি বা কিংপিন এবং বর্তমানে সে পলাতক রয়েছে।
তদন্তকারী আধিকারিক রবিবার জানিয়েছেন যে, শনিবারই পলাতক আসামিসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে এনডিপিএস (NDPS) আইনে সুনির্দিষ্ট ধারায় চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কথা মাথায় রেখে ক্রাইম ব্রাঞ্চ আদালতের কাছে ‘কাস্টোডিয়াল ট্রায়াল’ বা জেল হেফাজতে রেখে বিচার প্রক্রিয়ার আবেদন জানিয়েছে, যাতে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আদালতের নথিপত্র নষ্ট বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে না পারে।

