প্রশাসনিক স্তরে অসমের যুবকদের এগিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ
রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের প্রশাসনিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়িত করতে এক গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করল অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (AASU – আছু)। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অসমের যে সমস্ত পরীক্ষার্থী ইউপিএসসি (UPSC) প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে ২৫ জন যোগ্য প্রার্থীকে এককালীন ৫০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
আজ আছু-র সভাপতি উত্পল শর্মা একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার অত্যন্ত কঠিন এবং ব্যয়বহুল দ্বিতীয় ধাপে বসার আগে শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
মেইনস এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে পরিকাঠামো
এই আর্থিক সহায়তার মূল লক্ষ্য হলো প্রিলিমস এবং মেইনস (Mains) পরীক্ষার মধ্যবর্তী অত্যন্ত মূল্যবান সময়টিতে পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো। আছু নেতৃত্বের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রামীণ ও মফস্বলের অনেক ছাত্রছাত্রী মেধার জোরে প্রথম ধাপ পার করলেও, মেইনস পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় দামি স্টাডি মেটেরিয়াল বা গাইডেন্সের অভাবে পিছিয়ে পড়েন।
- উন্নত পরীক্ষার প্রস্তুতি: এই ৫০,০০০ টাকার অনুদান পরীক্ষার্থীদের মেইনস পরীক্ষার জন্য বিশেষ টেস্ট সিরিজ কেনা, রেফারেন্স বই সংগ্রহ এবং উত্তর লেখার বিশেষ কোচিংয়ের খরচ চালাতে সাহায্য করবে।
- ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও ইন্টারভিউ (Viva-Voce): চূড়ান্ত ইন্টারভিউ বা ভাইভা-ভোস পর্বের জন্য পরীক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং সঠিক উপস্থাপনা শেখাতেও এই অর্থ সহায়ক হবে।
আছু সভাপতি উত্পল শর্মা তাঁর বার্তায় বলেন, “যারা প্রিলিমস পাশ করে, মেইনস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় তাদের অত্যন্ত নিবিড় প্রশিক্ষণ ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। আছু এমন ২৫ জন প্রার্থীর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে তারা কোনো আর্থিক প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে পারে।”
মেধাবীদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের প্রতি আহ্বান
জাতীয় স্তরের এই মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষায় রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের সাফল্য সামগ্রিকভাবে অসমের সামাজিক পরিকাঠামোকে উন্নত করে। এই কথা মাথায় রেখে, আছু সভাপতি অসমের সাধারণ নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী মহলের কাছে একটি বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। তিনি আর্জি জানিয়েছেন, প্রত্যেকে যেন এই কৃতি সন্তানদের মানসিকভাবে উৎসাহিত করেন এবং তাদের স্বপ্নপূরণে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন, যাতে দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে অসমের প্রতিনিধিত্ব আরও বৃদ্ধি পায়।

