সোনারপুর / কলকাতা:
ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে শনিবার দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণে চরম হেনস্থার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। আচমকাই এক বিশাল উত্তেজিত জনতা তাঁর কনভয় ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে সাংসদকে লক্ষ্য করে জুতো, ডিম ও পাথর ছোড়া হয়। বচসা ও ধস্তাধস্তির জেরে অভিষেকের চশমা ভেঙে যায় এবং তাঁর গায়ের জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। “চোর-চোর” স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। শেষমেশ মাথা বাঁচাতে অভিষেককে একটি পুলিশ হেলমেট পরিয়ে কর্ডন করে এলাকা থেকে উদ্ধার করেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
“আমাকে খুনের চক্রান্ত করা হয়েছিল”: সরব অভিষেক
সোনারপুর থেকে উদ্ধারের পর অভিষেক ব্যানার্জিকে কলকাতার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর বুকে এবং হাতে কালশিটে দাগ রয়েছে, তবে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন এবং স্থিতিশীল। হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি-র দিকে আঙুল তোলেন তৃণমূল সাংসদ।
অভিषेक ব্যানার্জির বক্তব্য: “এটি আমাকে মেরে ফেলার একটি পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত ছিল। আমার চোখ লক্ষ্য করে ইট মারা হয়েছে, বুকে-পিঠে ক্রমাগত ঘুষি মারা হয়েছে। মাথায় হেলমেট না থাকলে আজ আমার মাথা দু-টুকরো হয়ে যেত। সকাল ১১টা থেকে পাশের একটি কমিউনিটি হলে গুণ্ডাদের জড়ো করে রাখা হয়েছিল পাথর ছোড়ার জন্য। এই গোটা ঘটনাটি বিজেপি স্পনসরড, কিন্তু আমি ভয় পাওয়ার পাত্র নই।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “শাসকরাই খুনি হয়ে উঠেছে—ধিক্কার বিজেপি।” তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও এই ভিআইপি সফরের সময় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অভিষেক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি এই হামলার বিরুদ্ধে হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন।
তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব নাকি নাগরিক ক্ষোভ? তুঙ্গে বিতর্ক
বিজেপি অবশ্য এই হামলার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘটনার পর পুলিশি অভিযানে ৭ জনকে আটক করা হয়, যার মধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
টুইট করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, ধৃতরা সকলেই তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী এবং স্থানীয় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ। অর্থাৎ, এটি সম্পূর্ণ তৃণমূলের আদি বনাম নব্য গোষ্ঠীর লড়াইয়ের ফল। তবে স্থানীয় সূত্রের খবর, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বহু সাধারণ মহিলা ছিলেন যারা হাতে ঝাঁটা ও কালো পতাকা নিয়ে রাস্তা অবরোধ করেছিলেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই বিক্ষোভ কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং সোনারপুর এলাকার বেহাল রাস্তাঘাট, তীব্র জলযন্ত্রণা এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক উদাসীনতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমে থাকা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।

