তৎক্ষণাৎ শুনানিতে অস্বীকৃতি শীর্ষ আদালতের
প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া “ককরোচ জনতা পার্টি” সংক্রান্ত মামলার জরুরি শুনানির আর্জি সোমবার খারিজ করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর একটি পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে ইন্টারনেটে যে বিভ্রান্তিকর প্রচার চলছে, তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন এক আইনজীবী।
আদালত কক্ষে আবেদনকারী আইনজীবী বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জরুরি ভিত্তিতে শোনার অনুরোধ জানালে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
প্রধান বিচারপতি আবেদনকারীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিষয়টিকে এতটা আবেগপ্রবণভাবে নেবেন না। এখানে এমন কোনো বিরাট জরুরি অবস্থা তৈরি হয়নি। আমরা যথাসময়ে এটি বিবেচনা করে দেখব।”
বিতর্কের উৎস: বিচারব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করার অভিযোগ
আদালতের লাইভ-স্ট্রিমিং বা সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওর অংশবিশেষ কেটে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে ট্রোলিং করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেই মূলত এই পিটিশনটি দাখিল করা হয়েছিল। আবেদনকারী আইনজীবীর দাবি, প্রধান বিচারপতি স্বয়ং বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে স্পষ্টীকরণ দেওয়া সত্ত্বেও এক শ্রেণীর নেটিজেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আদালতের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
আদালতে সওয়াল করার সময় আইনজীবী উল্লেখ করেন যে, আদালতের মৌখিক আলোচনাকে যেভাবে অপব্যবহার করা হচ্ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক:
- ভিডিওর খণ্ডিত ব্যবহার: আবেদনে বলা হয়েছে, এজলাসের ভেতরের যুক্তি-তর্কের নির্দিষ্ট কিছু অংশ কেটে, এডিট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনভাবে পরিবেশন করা হচ্ছে যা সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
- প্রতিষ্ঠানের অবমাননা: আইনজীবী বেঞ্চের সামনে বলেন, “ভারতের মাননীয় প্রধান বিচারপতির স্পষ্ট ব্যাখ্যার পরেও একটি বিকৃত এবং বিদ্বেষমূলক প্রচার চালানো হচ্ছে… এর মাধ্যমে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি করার চেষ্টা চলছে।”
মূল মন্তব্য এবং সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি
এই পুরো ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল কয়েকদিন আগের একটি মামলার শুনানির সময়। সেখানে ভুয়ো ডিগ্রিধারী আইনজীবী এবং আইনি পেশার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি কিছু কড়া শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “সমাজে কিছু পরজীবী রয়েছে যারা ব্যবস্থার ওপর আঘাত করে।” তিনি আরও যোগ করেছিলেন যে, কিছু মানুষ “ককরোচ বা আরশোলার মতো, যারা কোথাও কাজ না পেয়ে আইনি পেশায় ঢোকার চেষ্টা করে এবং পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়া বা আরটিআই (RTI) অ্যাক্টিভিস্ট সেজে সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে।”
এই মন্তব্যের পর ইন্টারনেট জুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয় এবং “ককরোচ জনতা পার্টি” নামক ট্রোল ক্যাম্পেইন গতি পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে এজলাসেই স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর মন্তব্য দেশের সাধারণ যুবসমাজের উদ্দেশ্যে ছিল না; বরং যারা “জাল এবং ভুয়ো সার্টিফিকেট” নিয়ে ওকালতি পেশায় অসদুপায় অবলম্বন করছে, তিনি কেবল তাদের কথাই বলেছিলেন।
বর্তমান এই আবেদনে আদালতের ভিডিওর বাণিজ্যিক বা বিভ্রান্তিকর এডিটিং বন্ধ করার পাশাপাশি, ভুয়ো আইন ডিগ্রিধারী আইনজীবীদের চিহ্নিত করতে একটি সিবিআই (CBI) তদন্তের নির্দেশ দেওয়ারও আর্জি জানানো হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে না হলেও সাধারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই পিটিशनটি খতিয়ে দেখা হবে।

