নয়াদিল্লি, ভারত:
আগামী মাস অর্থাৎ জুন থেকে ভারতের আকাশে বিমান ভ্রমণ আরও মহার্ঘ হতে চলেছে। আকাশছোঁয়া বিমানের জ্বালানি বা এটিএফ (ATF)-এর মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারের মন্দা ভাব সামাল দিতে দেশের তিন প্রধান বিমান সংস্থা—এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস যৌথভাবে দৈনিক প্রায় ২৫০টি ঘরোয়া বিমান (Domestic Flights) বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ব্যাপক কাটছাঁটের ফলে আগামী দিনে সাধারণ যাত্রীদের পকেট যে বেশ ভালো রকম কাটবে, তা বলাই বাহুল্য।
ভারতের ঘরোয়া বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী, কারণ এই তিন বিমান সংস্থার হাতেই রয়েছে দেশের মোট ৯০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার। অর্থাৎ, দেশের প্রতি ১০ জন বিমান যাত্রীর মধ্যে ৯ জনই এই তিন সংস্থার কোনো একটিতে যাতায়াত করেন।
কোন বিমান সংস্থা কত শতাংশ উড্ডয়ন কমাচ্ছে?
ঘরোয়া বিমান সূচীতে সবচেয়ে বড় কোপ বসিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। জুন ও জুলাই মাসের জন্য তারা নিজেদের ঘরোয়া বিমান সূচী প্রায় ২২ শতাংশ কমিয়ে দিচ্ছে।
| বিমান সংস্থা | বর্তমান দৈনিক উড্ডয়ন | সূচী হ্রাস (%) | দৈনিক বাতিল হওয়া বিমান (আনুমানিক) |
| এয়ার ইন্ডিয়া | ~৫০০ | ২২% | ১১০টি ফ্লাইট |
| ইন্ডিগো | ~২,২০০ | ৫% | ১১০টি ফ্লাইট |
| এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস | ~৩৪০ | ১০% | ৩৪টি ফ্লাইট |
| একত্রে মোট বাতিল | ~৩,০৪০ | — | ~২৫৪টি ফ্লাইট |
জ্বালানির চড়া দাম ও ট্রাভেল অফ-সিজনের ধাক্কা
বিমানের সংখ্যা কমিয়ে আনার পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ ব্যাখ্যা করেছে বিমান সংস্থাগুলি:
- জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) বা জেট জ্বালানির লাগাতার দাম বাড়ার ফলে বিমান চালানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “জ্বালানির অত্যধিক দামের কারণে আমাদের সামগ্রিক পরিচালন ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল, যা সামাল দিতেই এই সমন্বয়।”
- চাহিদার ঘাটতি (Lean Season): জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে গরমের ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ার পর দেশজুড়ে বিমান যাত্রীর সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। ইন্ডিগো সূত্রের খবর, ছুটির মরশুম শেষ হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন বিলাসবহুল বা অতিরিক্ত ভ্রমণের খরচ কমিয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে অফ-সিজনে বিমানের আসন খালি যাচ্ছিল।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানের সংখ্যা কমে যাওয়ার অর্থ হলো আসন সংখ্যা হ্রাস পাওয়া, যার জেরে জরুরি দরকারে স্পট-বুকিং করতে গেলে সাধারণ যাত্রীদের স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে টিকিট কিনতে হবে।

