নয়াদিল্লি — কেন্দ্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ও জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে আজ, ৬ জুন ২০২৬, দেশের রাজধানী দিল্লিতে এক নজিরবিহীন সমাবেশের ডাক দিয়েছে যুব চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। নিট-ইউজি (NEET-UG) মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং সিবিএসই (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণীর মূল্যায়নে চরম অসঙ্গতির প্রতিবাদে আজ দিল্লির যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামছে হাজার হাজার পড়ুয়া।
বস্টন থেকে দিপকের আগমন ও প্রতিবাদের নিয়মাবলী
সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা তথা ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট অভিজিৎ দিপকে আজ সকাল ৮টায় বস্টন থেকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। ভারতে রওনা দেওয়ার আগে এক্স (X) হ্যান্ডেলে দিপকে লেখেন: “আমার ভাগ্যকে সংবিধানের হাতে সঁপে দিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি। #JaiBhim।”
বিমানবন্দরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এড়াতে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা তাঁদের ২.২ কোটিরও বেশি (Instagram) অনুগামীদের উদ্দেশ্যে একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছেন। সমর্থক ও পড়ুয়াদের বিমানবন্দরে ভিড় না করে সকাল ৯টার মধ্যে সরাসরি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় জড়ো হতে বলা হয়েছে। সেখানে অভিজিৎ দিপকে এবং ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশ্বখ্যাত পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুক একসঙ্গে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ ধর্না প্রদর্শনের জন্য পুলিশের কাছে লিখিত অনুমতি চাইবেন।
আন্দোলনকে সম্পূর্ণ অহিংস ও সুশৃঙ্খল রাখতে দলের পক্ষ থেকে কিছু ‘করণীয় ও বর্জনীয়’ নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে:
- করণীয়: প্রতিবাদে একা না এসে পরিবারের সদস্যদের সাথে আসুন; হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা (তেরঙা) এবং পড়ার একটি বই রাখুন; কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের অহিংসার প্রতীক হিসেবে ফুল উপহার দিন; দিল্লির তীব্র গরম থেকে বাঁচতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, মাথায় টুপি রাখুন এবং পর্যাপ্ত জল সাথে রাখুন।
- বর্জনীয়: কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট সংগঠনের ব্যানার আনা যাবে না; কোনো উস্কানিমূলক মন্তব্য বা ট্রোলের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না; এবং খালি পেটে আন্দোলনে আসা চলবে না।
আদালতের অবস্থান ও কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী
এই আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়তেই গতকাল, ৫ জুন, দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ‘সেভ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংস্থা। জনস্বার্থ মামলায় আর্জি জানানো হয়েছিল যে, দিল্লির হাইওয়ে, মেট্রো স্টেশন এবং বিমানবন্দরে কড়া ব্যারিকেড দিয়ে যেন ছাত্রদের এই বিশাল জমায়েতকে আটকানো হয়। তবে বিচারপতি সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অমিত শর্মার অবকাশকালীন বেঞ্চ এই জনস্বার্থ মামলার জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করতে স্পষ্ট অস্বীকার করে।
আদালত হস্তক্ষেপ না করলেও দিল্লি পুলিশ কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। সেন্ট্রাল দিল্লি ও যন্তর মন্তর চত্বরে ১,০০০-এরও বেশি সশস্ত্র পুলিশ এবং দাঙ্গা দমন বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যন্তর মন্তরে এত বড় জমায়েতের জন্য আগে থেকে কোনো আইনি অনুমতি নেওয়া হয়নি, কারণ এই ধরনের প্রতিবাদের জন্য বেশ কয়েকদিন আগে আবেদন করতে হয়।
সংকটে দেশের শিক্ষা পরিকাঠামো
একটি ইন্টারনেট ব্যঙ্গচিত্র বা স্যাটায়ার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন আজ ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার গাফিলতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। সিজেপি-র অভিযোগ, সম্প্রতি সিবিএসই-র চেয়ারম্যান এবং সচিবকে বদলি করা আসলে সরকারের একটি “চোখে ধুলো দেওয়ার” চেষ্টা মাত্র, যা মন্ত্রীর আসল দায়বদ্ধতাকে আড়াল করছে।
ইতিমধ্যেই অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে এই আন্দোলনকে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রকের দাবি, জাতীয় পরীক্ষাগুলির স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় স্তরে তদন্ত এবং প্রযুক্তিগত সংস্কারের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে, যাতে পড়ুয়াদের শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়।

