পাটনা: ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে গত ২ জুন, ২০২৬ মঙ্গলবার রাতে পাটনার শিক্ষাকেন্দ্রে এক হিংসাত্মক হামলার ঘটনা ঘটে। দেশজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় শিক্ষক ফয়সাল খান, যিনি “খান স্যার” নামে পরিচিত, তাঁর কোচিং ইনস্টিটিউট “খান গ্লোবাল স্টাডিজ”-এ একদল দুষ্কৃতী অতর্কিতে হামলা চালায়। কদমকুয়াঁ থানা এলাকার অন্তর্গত এই সেন্টারে ব্যাপক পাথরকুচি, ভাঙচুর এবং কথিত বন্দুকবাজির ঘটনা ঘটে।
মূল কারণ: কেন এই সংঘাতের সূত্রপাত
খান স্যারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই হামলার মূল কারণ হলো পাটনার কোচিং সেন্টারগুলোর মধ্যকার গভীর পেশাগত ও ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। খান স্যার জানান যে, কিছু প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান তাঁর কম খরচে পড়ানোর মডেলটিকে সহ্য করতে পারছে না।
“তাদের রাগ হলো এই যে, কীভাবে কেউ এত কম খরচে শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারে এবং প্রতি বছর এত ভালো ফলাফল এনে দিতে পারে,” খান স্যার ব্যাখ্যা করেন যে, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের সস্তায় মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার ফলে স্থানীয় বাণিজ্যিক কোচিং বাজারে প্রভাব পড়েছে।
হামলা এবং আহতের বিবরণ
মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০:১০ নাগাদ এই হামলা শুরু হয়। একটি প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং ইনস্টিটিউটের সাথে যুক্ত ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল খান গ্লোবাল স্টাডিজের ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছায়। তারা ভবনে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে এবং আসবাবপত্র ও সম্পত্তি ভাঙচুর করে।
এই বিশৃঙ্খলার সময় সেখানে কর্মরত একজন নিরাপত্তা রক্ষীকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়, যার ফলে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁকে দ্রুত পাটনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (PMCH) ভর্তি করা হয়, যেখানে বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পর খান গ্লোবাল স্টাডিজের কানহাইয়া সিং ৪ জন নামজাদ এবং ১৫-২০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেন।
বর্তমান परिस्थिति এবং পুলিশি পদক্ষেপ
বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬ তারিখে পাটনা পুলিশ এই মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
- তিনজনকে গ্রেফতার: এই হিংসাত্মক ঘটনার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টার “জ্ঞান বিন্দু”-র ডিরেক্টর রৌশন আনন্দ। বাকি দুই অভিযুক্তের নাম গৌরব ও অভিষেক। তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হচ্ছে।
- সিসিটিভি ও প্রমাণ খতিয়ে দেখা: মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) রাজেশ রঞ্জন এবং সিটি পুলিশ সুপার (সেন্ট্রাল, পাটনা) নিশ্চিত করেছেন যে, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় তদন্তে জ্ঞান বিন্দুর কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের ধরতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
- গুলি চালনার প্রমাণ মেলেনি: খান স্যারের পক্ষ থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ করা হলেও, পুলিশ সুপার জানান যে সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে গুলি চলার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
- অভিযুক্ত ডিরেক্টরের পাল্টা দাবি: সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জ্ঞান বিন্দুর ডিরেক্টর রৌশন আনন্দ দাবি করেছেন যে, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম কালিমালিপ্ত করার একটি চক্রান্ত মাত্র।
খান স্যার জানান যে রাতভর এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর সেন্টারে অধ্যয়নরত হাজার হাজার দরিদ্র শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার স্বার্থে স্থায়ী পুলিশ মোতায়েন রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সরকারি প্রতিক্রিয়া এবং আগামী দিনের নীতি
এই ঘটনার পর কোচিং সেন্টারগুলোর অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। বিহারের শিক্ষামন্ত্রী মিছিলেশ তিওয়ারি এই আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। কোচিং সেন্টারগুলোর ব্যবসায়িক শত্রুতা যাতে ভবিষ্যতে এভাবে রাস্তায় নেমে না আসে, তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রী তিওয়ারি ঘোষণা করেছেন যে, আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজ্য सरकार একটি সুনির্দিষ্ট নীতি বা গাইডলাইন তৈরি করবে, যা কোচিং ইনস্টিটিউটগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

