নতুন দিল্লি
গাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে পকেটে বাড়তি টান পড়তে চলেছে ভারতীয় ক্রেতাদের। আগামী ১ জুন, ২০২৬ থেকে ভারতের শীর্ষস্থানীয় তিন গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা—মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া, হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া, এবং মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা তাদের সমস্ত গাড়ির দাম একযোগে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।
কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি (বিশেষ করে লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম), মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং ক্রমবর্ধমান পরিবহন ও পরিচালন ব্যয়ের কারণেই এই মূল্য সংশোধন অনিবার্য হয়ে পড়েছে বলে সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে।
কোন গাড়ি কত টাকা দামি হচ্ছে?
- মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া: দেশের বৃহত্তম এই গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাটি মডেল ও ভ্যারিয়েন্ট ভেদে সর্বোচ্চ ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়াতে চলেছে। মারুতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিগত কয়েক মাস ধরে অভ্যন্তরীণ স্তরে খরচ কমানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা সত্ত্বেও ক্রমবর্ধমান বাজারের চাপে তারা এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা আংশিকভাবে ক্রেতাদের ওপর ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
- হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া: দক্ষিণ কোরিয়ার এই বিশ্বখ্যাত অটোমোবাইল জায়ান্ট তাদের সমস্ত গাড়ির এক্স-শোরুম দাম সর্বোচ্চ ১২,৮০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করছে। উল্লেখ্য, এই মূল্যবৃদ্ধিটি ১ মে থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে হুন্ডাই কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটি এক মাস পিছিয়ে দেয়। ২০২৬ সালে এটি হুন্ডাইয়ের দ্বিতীয় দফার বড় মূল্যবৃদ্ধি।
- মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা: পিছিয়ে নেই মহিন্দ্রাও। তারাও ভারতের বাজারে তাদের সমস্ত জনপ্রিয় এসইউভি (SUV) এবং অন্যান্য গাড়ির দাম একধাক্কায় ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।
দ্বিগুণ ধাক্কা: মাত্র ১০ দিনে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ল ৫ টাকা!
গাড়ির আকাশছোঁয়া দামের মাঝেই সাধারণ মানুষের ওপর নেমে এসেছে অপর এক আর্থিক কোপ। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরান সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম একলাফে অনেকটাই বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে গত মাত্র ১০ দিনের মধ্যে ভারতের প্রধান শহরগুলিতে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দাম লিটার প্রতি প্রায় ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্রেতাদের ওপর সামগ্রিক প্রভাব
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্স-শোরুম প্রাইসে ১২,৮০০ বা ৩০,০০০ টাকার বৃদ্ধি আপাতদৃষ্টিতে কম মনে হলেও, অন-রোড প্রাইসের (On-road Price) ক্ষেত্রে এর প্রভাব হবে অনেক গভীর। কারণ গাড়ির মূল দাম বাড়ার সাথে সাথে তার ওপর আনুপাতিক হারে আরটিও (RTO) রেজিস্ট্রেশন ট্যাক্স, জিএসটি (GST) এবং গাড়ি ইনশিওরেন্সের খরচও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বিশেষ করে বাজেট ও মিড-সেগমেন্টের গাড়ি বিক্রির গতি কিছুটা সাময়িকভাবে মন্থর হতে পারে.

