তীব্র মার্কিন বিমান হামলার জবাবে হরমূজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করল ইরান, মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ

Iran On Thursday Announced The Complete Closure Of The Strait Of Hormuz After Us Attacks
Iran On Thursday Announced The Complete Closure Of The Strait Of Hormuz After Us Attacks (PC: Social Media Sites)

তেহরান / ওয়াশিংটন — মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৃহস্পতিবার, ১১ জুন २०२৬-এ এক অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অনিশ্চিত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কৌশলগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ‘হরমূজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) সমস্ত ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর টানা দ্বিতীয় রাতের তীব্র ও নিখুঁত বিমান হামলার পর এই নাটকীয় परिस्थितियों সৃষ্টি হয়।

এর জবাবে তেহরান কেবল বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথই অবরুদ্ধ করেনি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি ভিন্ন দেশ—জর্ডান, কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

দক্ষিণ ইরানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মার্কিন হামলা

ইউ.এস. সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং মেরিন কর্পস बुधवार, ১০ জুন ইরানের সেইসব সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করতে “আত্মরক্ষামূলক” বিমান हमला চালায়, যা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকে পর্যবেক্ষণ ও হুমকি দিচ্ছিল।

লক্ষ্যবস্তুসমূহ

পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রগুলি দক্ষিণ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট, রাডার ব্যবস্থা এবং নজরদারি চৌকিগুলি সফলভাবে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই কৌশলগত উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে রাতভর বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়:

  • প্রধান বন্দর নগরী বান্দর আব্বাস
  • কশেম দ্বীপ (Qeshim Island)
  • দক্ষিণ উপকূলীয় শহর সিরিক এবং মিনাব

মার্কิน প্রতিরক্ষা সচিব এই অভিযানের পক্ষে সওয়াল করে সতর্ক করেছেন যে, ইরানের উস্কানিমূলক আচরণ যতদিন বজায় থাকবে, মার্কিন সামরিক হামলাও ততকাল “কঠোর” ও “স্পষ্ট” থাকবে।

হরমূজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান

মার্কิน বোমাবর্ষণের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, IRGC-এর শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড তাদের অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে একটি চরম হুঁশিয়ারি জারি করে। অঞ্চলের তীব্র নিরাপত্তাহীনতার बात উল্লেখ করে, ইরান হরমূজ প্রণালী দিয়ে সমস্ত বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজ এবং তেল ট্যাংকারের চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

“অবিলম্বে হরমূজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করা হলো… এই জলপথ অতিক্রম করার চেষ্টা করলে যেকোনো জাহাজকে সরাসরি নিশানা করা হবে।” — IRGC-এর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

IRGC নৌবাহিনী দাবি করেছে যে তারা ইতিমধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করা শুরু করেছে এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারী দুটি জাহাজকে প্রতিহত করেছে। এর ঠিক একদিন আগে ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক ট্যাংকার এমটি সেটেবেলো-র ওপর মার্কিন হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হয়েছিল।

নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে দিল আমেরিকা

আন্তর্জাতিক জলপথ অবরুদ্ধ করার ইরানের এই একতরফা অধিকারকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। CENTCOM সামাজিক মাধ্যমে IRGC-এর বিবৃতির বিরোধিতা করে স্পষ্ট জানিয়েছে कि পশ্চিমা নৌবাহিনীর কড়া নজরদারিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলি হরমূজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই যাতায়াত করছে। নৌ-সংঘর্ষের সময় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবিও পেন্টাগন কঠোরভাবে উড়িয়ে দিয়েছে।

আঞ্চলিক সংঘাত: জর্ডান, কুয়েত এবং বাহরাইনে হামলা

এই মুখোমুখি সংঘাত এখন আর কেবল ইরানের সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, কারণ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে IRGC।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে জর্ডানের মুভাফফাক সালতি বিমান ঘাঁটির বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং সামরিক পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন বা আম্মান (জর্ডান)—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেনি। স্থানীয় প্রতিরক্ষা সূত্রগুলি ইঙ্গিত দিয়েছে যে আঞ্চলিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলি ধেয়ে আসা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে।

বিশ্ব বাজারে তেলের দামে ব্যাপক আগুন

হরমূজ প্রণালী—যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়ামের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়—তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই পরস্পরবিরোধী খবরের জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে অপরিশোধित তেলের দাম একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে, কারণ বিশ্ব বাজারের ব্যবসায়ীরা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন। সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক আলোচনা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাগুলি বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিচ্ছে।

Share This Article
Exit mobile version