ইরান চুক্তি করতে মরিয়া, দ্রুত মিটবে যুদ্ধ: ট্রাম্পের মন্তব্যে বিশ্ব বাজারে তেলের দামে বড় পতন সংকেত

Trump Signals Rapid End To Conflict
Trump Signals Rapid End To Conflict (PC: Social Media Sites)

ভূ-রাজনৈতিক মোড় ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরান আমেরিকার সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে অত্যন্ত আগ্রহী, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির খুব দ্রুত অবসান ঘটতে চলেছে। একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, আগামী দিনে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। বাজারে তেলের প্রচুর জোগান থাকার কারণেই জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজার দর হুড়মুড়িয়ে নিচে নেমে আসবে বলে তিনি স্পষ্ট আশ্বাস দেন।

প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর মার্কিন সিনেটের রাশ

ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক বার্তার মাঝেই মার্কিন ওয়াশিংটনে এক বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। মার্কিন সিনেট একটি বিশেষ প্রস্তাবে কমিটির আপত্তি উড়িয়ে ৫০-৪৭ ভোটে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রস্তাবে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি চারজন রিপাবলিকান সিনেটর (সুসান কলিন্স, লিসা মুরকোভস্কি, র‍্যান্ড পল এবং বিল ক্যাসিডি) সমর্থন জানিয়েছেন। সিনেটর টিম কেইনের আনা এই বিলটির মূল লক্ষ্য হলো, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতার ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করা। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স সহ একাধিক শীর্ষ নেতা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে আমেরিকার আর অন্তহীন যুদ্ধে কোটি কোটি ডলার অপচয় করা উচিত নয়।

নেপথ্য কূটনীতি ও স্থগিত বিমান হামলা

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আচমকা থিতিয়ে পড়ার নেপথ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির বড় ভূমিকা রয়েছে। কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপ্রধানদের বিশেষ অনুরোধের পর তেহরানের ওপর পূর্বপরিকল্পিত “টার্গেটেড সামরিক হামলা” সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, মার্কিন ফৌজ যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সেনা অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকলেও, বর্তমানে শান্তি আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে নতুন এই চুক্তির প্রধান শর্ত হবে—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। এই বিষয়ে তিনি যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যানিয়েল কেইনকে আলোচনার গতিপ্রকৃতির ওপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

Share This Article
Exit mobile version