গাজা সিটি, প্যালেস্টাইন:
হামাস বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়ে ইজরায়েল বুধবার (২৭ মে, ২০২৬) এক ঐতিহাসিক সামরিক সাফল্যের ঘোষণা করেছে। ইজরায়েলি বিমান বাহিনী এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’-এর যৌথ অভিযানে গাজা সিটির রিমাল এলাকায় হমাসের সশস্ত্র শাখা অল-কাসাম ব্রিগেডের নবনিযুক্ত প্রধান মোহাম্মদ ওদেহ নিহত হয়েছেন।
ওদেহের এই আকস্মিক মৃত্যু হমাসের যুদ্ধক্ষমতার ওপর এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে। গত ১৫ মে ইজরায়েলি হামলায় হমাসের তৎকালীন প্রধান ইজ্জ অল-দিন অল-হাদ্দাদ নিহত হওয়ার পর, ১৮ মে ওদেহকে এই পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। মাত্র আট দিনের মাথায় নিখুঁত ট্র্যাকিং-এর মাধ্যমে ইজরায়েল তাকেও চিরতরে সরিয়ে দিল।
নিখুঁত গোয়েন্দা অপারেশন ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক যৌথ বার্তায় জানিয়েছেন, মোহাম্মদ ওদেহ হমাসের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ছিলেন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ইজরায়েল আক্রমণের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। গোয়েন্দারা মাসের পর মাস ধরে তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলেন।
গাজার শিফা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই রকেট হামলায়:
- হতাহতের সংখ্যা: হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
- পরিবারের মৃত্যু: হমাসের অভ্যন্তরীণ সূত্র মারফত জানা গেছে, ওই আবাসিক ভবনে হামলার সময় ওদেহের সাথে তার স্ত্রী এবং সন্তানরাও মারা গেছেন।
বুধবার গাজা সিটিতে ওদেহের শেষকৃত্যের সময় তাঁর আত্মীয়রা ওদেহের মৃত্যুর খবর স্বীকার করলেও হমাসে তাঁর সামরিক পদমর্যাদার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। হমাসের তরফ থেকেও এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝে গাজায় কান্নার ইদ
এই ভয়াবহ হামলাটি এমন এক সময়ে চালানো হলো যখন গাজার সাধারণ মানুষ মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব ইদ-উল-আজহা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু বিগত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধের কারণে এবারও গাজায় খুশির পরিধি সম্পূর্ণ মলিন। রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) তথ্য অনুযায়ী, গাজার ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষের মধ্যে প্রায় ৯০% মানুষই আজ গৃহহীন এবং তারা নোংরা জল ও আবর্জনায় ভরা অস্থায়ী তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছেন।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে দুই পক্ষের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা বর্তমানে অত্যন্ত নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেও ইজরায়েলি হামলায় গাজায় ৮৮০ জনেরও বেশি প্যালেস্টাইন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনও অনেক দূরের পথ।

