ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত থেকে বাংলা: ১৪২ কোটির ড্রাগ সাম্রাজ্যের খোঁজে ত্রিপুরা, মিজোরাম ও পশ্চিমবঙ্গে ED-র বিশাল তল্লাশি

Ed Raids Multiple Locations Across Mizoram, Tripura, And West Bengal
Ed Raids Multiple Locations Across Mizoram, Tripura, And West Bengal (PC: Social Media Sites)

আগরতলা/আইজল/কলকাতা — উত্তর-পূর্ব ভারত ও পশ্চিমবঙ্গে শিকড় গেড়ে বসা আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের কোটি কোটি টাকার আর্থিক সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে সোমবার একযোগে তিন রাজ্যে ব্যাপক অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মিজোরাম, त्रिपुरा এবং পশ্চিমবঙ্গের একাধিক হাই-প্রোফাইল ঠিকানায় এই ম্যারাথন তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পিটিআই (PTI) সূত্রের খবর, এই পুরো অভিযানটি ১৪২ কোটি টাকার একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার ও মানি লন্ডারিং (আর্থিক তছরুপ) মামলার সাথে যুক্ত।

সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে কড়া নজরদারি ED আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যে সমস্ত বাড়ি, অফিস বা গুদামে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, সেগুলি ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। এর মধ্যে রয়েছে মিজোরামের ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা এবং ত্রিপুরার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চল। গোয়েন্দাদের ধারণা, এই সীমান্ত অঞ্চলগুলিকে ব্যবহার করেই রমরমিয়ে চলছিল মাদকের আন্তর্জাতিক চোরাচালান।

২০২৫ সালের মাদক মামলার সূত্র ধরে অ্যাকশন প্রিভেনশন অফ মানি लॉन्ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে রুজু হওয়া ED-র এই মামলাটির ভিত্তি মূলত নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)-র একটি পুরোনো মামলা। ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ত্রিপুরায় একটি বড়সড় অভিযানে ৪৯.১০ কেজি মেথামফেটামিন (একটি অত্যন্ত চড়া দামের সিন্থেটিক ড্রাগ) এবং ৪০ গ্রাম হেরোইন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

সেই ঘটনার আর্থিক উৎস সন্ধান করতে গিয়েই ED আধিকারিকরা আন্তর্জাতিক এই চক্রের হদিশ পান:

  • পাচারের আন্তর্জাতিক রুট: তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মিয়ানমার থেকে উৎপাদিত মেথামফেটামিন মিজোরামের চম্পাই এবং জোখাওথার সেক্টর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করাত। এরপর সেই মাদক ত্রিপুরার ডিলারদের হাত ঘুরে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের অন্যান্য প্রান্তে সরবরাহ করা হত।
  • ১৪২ কোটির ভুয়ো আর্থিক জাল: ED-র প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই মাদক ব্যবসা থেকে সংগৃহীত ১৪২ करोड़ টাকা অত্যন্ত চতুরতার সাথে ভারতের মূল অর্থনীতিতে মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। টাকা সরাসরি ব্যাংকে না রেখে, তা বিভিন্ন ‘শেল কোম্পানি’ বা ভুয়ো সংস্থা এবং একাধিক বেনামি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন (লেয়ারিং) করা হয়েছিল, যাতে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়া যায়। সোমবারের এই তল্লাশির মূল উদ্দেশ্য হলো সেই সমস্ত ব্যাংকিং নথিপত্র এবং ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার করা।
Share This Article
Exit mobile version