আগরতলা / নতুন দিল্লি:
দেশের ভবিষ্যৎ শক্তি পরিকাঠামোকে সুরক্ষিত করতে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির সার্বিক উন্নয়নে এক বিরাট পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টর জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন, ডেটা সেন্টার এবং গৃহস্থালির বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে আগামী বছরের মধ্যে ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩০০ গিগাওয়াটে (GW) নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই বছরের ২১ মে দেশজুড়ে রেকর্ড ২৭০.৮ গিগাওয়াট বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা দেখা দিয়েছিল।
২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক শক্তির ব্লু-প্রিন্ট
দীর্ঘমেয়াদী শক্তি সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র এখন থার্মাল ও সোলার এনার্জির পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তির (Nuclear Power) ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ মিশনের অধীনে ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমান পর্যায় থেকে ১০ গুণ বাড়িয়ে ১০০ গিগাওয়াট করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
এই পরমাণু মিশন সফল করতে যে কৌশলগুলি নেওয়া হচ্ছে:
- বেসরকারি বিনিয়োগ: পারমাণবিক ক্ষেত্রে একচেটিয়া সরকারি আধিপত্য কমিয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে জমি ও মূলধন বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
- ভারত স্মল রিঅ্যাক্টর (BSR): ছোট ও অত্যন্ত নিরাপদ ‘স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর’ (SMR) তৈরির জন্য গবেষণায় জোর দেওয়া হচ্ছে, যা কম সময়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম।
- আইন সংশোধন: বেসরকারি ক্ষেত্রকে উৎসাহিত করতে পরমাণু শক্তি আইনে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার আনা হচ্ছে।
ত্রিপুরার জন্য ১২০০ কোটি টাকার নগরোন্নয়ন প্রকল্প
উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহার সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে ত্রিপুরার নগর পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে ১,২০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট মঞ্জুর করা হবে। এই খরচের মধ্যে ৩০০ কোটি দেবে কেন্দ্র, ৩০০ কোটি দেবে রাজ্য এবং বাকি ৬০০ কোটি টাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে নেওয়া হবে।
এর পাশাপাশি, বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে ‘পিএম সূর্য ঘর মুক্ত বিদ্যুৎ যোজনা’র অধীনে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ত্রিপুরায় প্রায় ২ লক্ষ বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের এই সংস্কার এবং পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ ত্রিপুরার দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

