নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ
ত্রিপুরায় সরকারি চাকরির আবেদন ফি-র চড়া মূল্য নিয়ে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ত্রিপুরা হাইকোর্ট-এর পক্ষ থেকে জারি করা সাম্প্রতিক একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর এই বিতর্ক আরও জোরালো রূপ নিয়েছে। যেখানে পিওন (Peon), অর্দলী (Orderly) এবং গার্ড (Guard)-এর মতো একেবারে প্রাথমিক স্তরের গ্রুপ-ডি (Group-D) পদের আবেদনের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের আবেদন ফি দাবি করা হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, যেখানে চাকরিগুলি স্থায়ী নয় এবং নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর (Fixed Pay), সেখানে এই নিম্ন স্তরের কাজের জন্য এত টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায্য।
আদালতের প্রশাসনিক শাখার অধীনে মোট ৬৯টি গ্রুপ-ডি শূন্যপদ পূরণের জন্য এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি চালানো হচ্ছে, যার বেতন পুরোপুরি নির্দিষ্ট চুক্তিভিত্তিক মেয়াদের ওপর নির্ভরশীল।
আবেদন ফি-র আর্থিক খতিয়ান
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত আবেদন ফি-র তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো, যা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে:
- সাধারণ / অসংরক্ষিত (UR) শ্রেণী: এই বিভাগের প্রার্থীদের প্রতিটি ফর্মের জন্য ৩০০ টাকা আবেদন ফি দিতে হবে।
- তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST) শ্রেণী: কিছুটা ছাড় পেলেও আরক্ষিত শ্রেণীর পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ফি ধার্য করা হয়েছে ১৫০ টাকা।
পরীক্ষার্থীদের বক্তব্য, যেখানে এই পদগুলির মূল মাসিক বেতনই মাত্র কয়েক হাজার টাকা (ফিক্সড পে), সেখানে মাত্র একটি পরীক্ষায় বসার জন্য ৩০০ টাকা খরচ করা অত্যন্ত কষ্টকর। একজন বেকার যুবককে বছরের বিভিন্ন সময়ে বহু দপ্তরে পরীক্ষা দিতে হয়, ফলে শুধু ফর্ম ফিল-আপ করতেই তাদের হাজার হাজার টাকা ঋণের দায়ে জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে।
ফি মকুবের জোরালো দাবি
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে দানা বেঁধেছে যখন রাজ্যের সরকারি চাকরি ও নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে বেকার সমাজ এমনিতেই নানা আশঙ্কায় ভুগছে। বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠন দাবি তুলেছে যে, রাজ্য সরকার ও বিচার বিভাগীয় নিয়োগ বোর্ডের এই স্পর্শকাতর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। সমাজের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া স্তরের চাকরিপ্রার্থীদের কথা মাথায় রেখে চতুর্থ শ্রেণী (Class IV) এবং গ্রুপ-ডি-র সমস্ত পদের জন্য আবেদন ফি সম্পূর্ণ মকুব করা অথবা নামমাত্র টোকেন ফি নির্ধারণ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

