ত্রিপুরায় ৫ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু: খরচে লাগাম টানতে ৭৫% সরকারি বৈঠক হবে অনলাইনে, কেনা হবে ইলেকট্রিক গাড়ি

Tripura Implements 5 Day Work Week
Tripura Implements 5 Day Work Week (PC: Social Media Sites)

আগরতলা : রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এক বড়সড় সংস্কার এনে ত্রিপুরায় সমস্ত সরকারি অফিসের জন্য সপ্তাহে ৫ দিন কাজের নিয়ম (Five-day working week) চালু করল রাজ্য সরকার। এর ফলে এখন থেকে সরকারি কর্মচারীরা শনি ও রবিবার—দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি পাবেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ক্যাবিনেট মুখপাত্র তথা মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, এই নতুন নিয়মটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

অফিসের সময় পরিবর্তন ও ওয়ার্ক ফ্রম হোম বাতিল সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন করার কারণে কর্মদিবসগুলিতে কাজের সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী সময়সূচী পরিবর্তন করে এখন থেকে সমস্ত সরকারি অফিস সকাল ৯:৩০ টা থেকে সন্ধে ৬:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

এর পাশাপাশি, গ্রুপ সি (Group C) এবং গ্রুপ ডি (Group D) কর্মীদের জন্য চালু থাকা রস্টার ভিত্তিক ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (WFH) ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়সংকোচ বা সাশ্রয়ের আহ্বানের পর এই দূরবর্তী কাজের রস্টার চালু করা হয়েছিল, যা এখন বাতিল করা হলো।

ব্যয়সংকোচ নীতি: ৭৫ শতাংশ ভার্চুয়াল মিটিং ও ইভি গাড়ির ব্যবহার বিশ্বের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং সরকারি তহবিল সাশ্রয় করতে প্রশাসন কয়েকটি কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে:

  • ভার্চুয়াল মিটিং: সরকারি খরচ কমাতে এখন থেকে প্রশাসনের প্রায় ৭৫ শতাংশ বৈঠক ভার্চুয়ালি বা অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
  • ইলেকট্রিক গাড়ি (EV): জ্বালানি বাবদ বিপুল খরচ বাঁচাতে রাজ্য সরকার এবার থেকে সরকারি কাজে ইলেকট্রিক গাড়ি কেনা এবং ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেবে।

৮১টি শূন্যপদে নিয়োগ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুত রাজ্যের বেকার কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গণপূর্ত দপ্তর (PWD), তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর (ICA) এবং অর্থ দপ্তরের (Finance Department) অধীনে থাকা মোট ৮১টি শূন্যপদ দ্রুত পূরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রাপ্যতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্য দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান যে, এই মুহূর্তে ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল এবং অন্যান্য সমস্ত জরুরি খাদ্যসামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তাই সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

Share This Article
Exit mobile version