চন্দ্রযান-৩ এর ‘শিব শক্তি পয়েন্ট’-এর মাটির সাথে অ্যান্টার্কটিকায় পাওয়া ৪০ বছরের পুরোনো উল্কাপিণ্ডের হুবহু মিল

Chandrayaan 3 Moon Soil Matches Ancient Antarctica Lunar Meteorite Alha 81005, Prl Study
Chandrayaan 3 Moon Soil Matches Ancient Antarctica Lunar Meteorite Alha 81005, Prl Study (PC: Social Media Sites)

নতুন দিল্লি / আহমেদাবাদ মহাকাশ বিজ্ঞানে এক অভূতপূর্ব নজির গড়ল ভারতের চন্দ্রযান-৩ মিশন। আহমেদাবাদের ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি (PRL)-এর বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ‘শিব শক্তি পয়েন্ট’-এর মাটির রাসায়নিক গঠনের সাথে চার দশক আগে অ্যান্টার্কটিকায় উদ্ধার হওয়া একটি চন্দ্র উল্কাপিণ্ডের হুবহু মিল রয়েছে।

বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নাল NPJ Space Exploration-এ প্রকাশিত এই গবেষণাপত্র অনুযায়ী, শিব শক্তি পয়েন্টের খনিজ উপাদানগুলো ALHA 81005 নামের একটি উল্কাপিণ্ডের সাথে মিলে যায়। ১৯৮১ সালে অ্যান্টার্কটিকার অ্যালান হিলস অঞ্চল থেকে এটি উদ্ধার করা হয়েছিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটিই প্রথম প্রমাণিত উল্কাপিণ্ড, যা চাঁদ থেকে ছিটকে পৃথিবীতে এসেছিল বলে নিশ্চিত করা হয়েছিল।

প্রজ্ঞান রোভারের APXS যন্ত্রের ম্যাজিক

চন্দ্রযান-৩-এর প্রজ্ঞান রোভার-এ থাকা আলফা পার্টিকেল এক্স-রে স্পেক্ট্রোমিটার (APXS) নামক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই আবিষ্কার করা হয়েছে। চাঁদের মাটির রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেখানে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা (Mg# 70) সাধারণ চন্দ্রপৃষ্ঠের গড় পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি, পাশাপাশি লোহা ও অ্যালুমিনিয়ামের অনুপাতও অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট।

গবেষণার প্রধান লেখক তথা পিআরএল-এর বিজ্ঞানী দ্বিজেশ রায় জানান:

“চন্দ্রযান-৩ যেখানে অবতরণ করেছে, সেখানকার মাটি মূলত প্রথাগত ফেরোয়ান অ্যানোর্থোসাইট এবং ম্যাগনেসিয়াম-সমৃদ্ধ শিলার (Mg-suite rocks) একটি বিরল মিশ্রণ, যা অ্যান্টার্কটিক উল্কাপিণ্ড ALHA 81005-এর রাসায়নিক কাঠামোর অত্যন্ত কাছাকাছি।”

চাঁদের গভীর রহস্যের উন্মোচন

পিআরএল-এর ডিরেক্টর অনিল ভরদ্বাজ এবং গবেষক ঋষিতোষ কে সিনহা সহ পুরো টিম এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ওমান, লিবিয়া এবং আফ্রিকা থেকে পাওয়া ৬৬টি চন্দ্র উল্কাপিণ্ডের ভূ-রাসায়নিক ডেটা বিশ্লেষণ করেন। যার মধ্যে ALHA 81005-এর সাথেই চন্দ্রযান-৩ এর ডেটার সবচেয়ে নিখুঁত মিল পাওয়া যায়।

বিজ্ঞানীদের অনুমান, কোটি কোটি বছর আগে চাঁদের বুকে হওয়া বিশাল কোনো মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে (যেমন—সাউথ পোল-আইটকেন অববাহিকা তৈরি হওয়ার সময়) চাঁদের ভেতরের গভীর স্তর বা ম্যান্টেলের উপাদানগুলো উপড়ে এসে পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার চাঁদের আদিম বিবর্তন ও ‘লুনার ম্যাগমা ওশান’ তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করল।

Share This Article
Exit mobile version