চেন্নাই, তামিলনাড়ু:
ভারতের বেসরকারি মহাকাশ ক্ষেত্রে (Private Space Sector) যুক্ত হলো আরও একটি সোনালী অধ্যায়। চেন্নাইয়ের অগ্রণী স্পেস-টেক স্টার্ট-আপ অগ্নিকুল কসমস (Agnikul Cosmos) গত মঙ্গলবার (১৯ মে, ২০২৬) সফলভাবে একযোগে চারটি সেমি-ক্রায়োজেনিক রকেট ইঞ্জিনের ক্লাস্টার টেস্ট-ফায়ারিং সম্পন্ন করেছে। ভারতের মাটিতে এই প্রথম একাধিক সেমি-ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিনকে একসাথে যুক্ত করে এমন সফল পরীক্ষা চালানো হলো, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পথকে আরও প্রশস্ত করল।
সবচেয়ে গর্বের বিষয় হলো, পরীক্ষায় ব্যবহৃত চারটি ইঞ্জিনই সম্পূর্ণ আধুনিক থ্রিডি-প্রিন্টিং (3D-Printed) প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো জোড়াতালি ছাড়াই একক হার্ডওয়্যার হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। চেন্নাইয়ের আইআইটি মাদ্রাজ রিসার্চ পার্কে অবস্থিত অগ্নিকুলের নিজস্ব ‘রকেট ফ্যাক্টরি-১’-এ এগুলি তৈরি করা হয়েছে।
রকেট ক্লাস্টারিং-এর জটিল বৈজ্ঞানিক কৌশল
মহাকাশে ভারী স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ পাঠাতে গেলে একটি বড় ইঞ্জিনের বদলে একাধিক ছোট রকেট ইঞ্জিনকে একসাথে যুক্ত করে শক্তিশালী ‘থ্রাস্ট’ বা ধাক্কা তৈরি করা হয়। একেই বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ক্লাস্টারিং’ বলা হয়। কিন্তু এর প্রযুক্তি অত্যন্ত জটিল, কারণ প্রতিটি ইঞ্জিনের প্রজ্জ্বলন, জ্বালানির গতি এবং কার্যক্ষমতা যদি নিখুঁতভাবে এক না হয়, তবে রকেটে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
অগ্নিকুলের এই সফল পরীক্ষায় চারটি ইঞ্জিনকে নিখুঁতভাবে একসাথে চালু ও বন্ধ করার জন্য মূলত নিচের সিস্টেমগুলির মধ্যে রিয়েল-টাইম সমন্বয় সাধন করা হয়েছিল:
- ৮টি বৈদ্যুতিক মোটর যা ইঞ্জিনের গতি নিয়ন্ত্রণ করে।
- ৮টি জ্বালানি পাম্প যা সুনির্দিষ্টভাবে তরল অক্সিজেন সরবরাহ করে।
- ৮টি স্পিড-কন্ট্রোল সফটওয়্যার অ্যালগরিদম যা অত্যন্ত সুসংগতভাবে কাজ করে।
এই ইঞ্জিনে তরল অক্সিজেনের সাথে পরিশোধিত কেরোসিন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা সাধারণ ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিনের চেয়ে সহজে রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় এবং মহাকাশে রকেটের গতিপথ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
মাত্র ৭ দিনে তৈরি হচ্ছে আস্ত রকেট ইঞ্জিন
সাধারণ পদ্ধতিতে একটি রকেট ইঞ্জিন তৈরি করতে হাজার হাজার ছোট ছোট পুর্জাকে ওয়েল্ডিং বা জোড়াতালি দিয়ে জুড়তে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এতে মাসের পর মাস সময় লাগে। কিন্তু অগ্নিকুলের লার্জ ফরম্যাট মেটাল ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো জয়েন্ট ছাড়াই মাত্র ৭ দিনে তৈরি করা যায় আস্ত একটি ইঞ্জিন, যা ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব বাড়ায় এবং উৎপাদন সময় ৯৭% কমিয়ে দেয়।
এই ৪টি ইঞ্জিন মূলত অগ্নিকুলের নিজস্ব স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল ‘অগ্নিবাণ’ (Agnibaan) রকেটের বুস্টার স্টেজে ব্যবহার করা হবে, যা ৫০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের ছোট উপগ্রহকে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (LEO) অত্যন্ত কম খরচে পৌঁছে দিতে সক্ষম। ২০২৪ সালের সফল সাব-অরবিটাল উড্ডয়নের পর, এই সফল ক্লাস্টার পরীক্ষাটি চলতি বছরের শেষে অগ্নিকুলের প্রথম বাণিজ্যিক কক্ষপথ মিশন বাস্তবায়নে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

