নতুন দিল্লি / জিন্দ
পরিবেশ দূষণ রোধ এবং কার্বন-মুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল ভারতীয় রেল। উত্তর রেলওয়ের অধীনে হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত শাখায় দেশের প্রথম ১০-কোচের হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল-ভিত্তিক (Hydrogen fuel cell-based) ট্রেন চালানোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই যুগান্তকারী প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে জার্মানি, জাপান, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির এলিট ক্লাবে প্রবেশ করল ভারত।
এই প্রকল্পটি সফল করতে হরিয়ানার জিন্দ-এ সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি হাইড্রোজেন স্টোরেজ এবং রিফুয়েলিং বা গ্যাস ভরার কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।
কীভাবে কাজ করবে এই দূষণমুক্ত হাইড্রোজেন ট্রেন? রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনটিতে একটি শক্তিশালী ১,২০০ কিলোওয়াট (kW) হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রপালশন সিস্টেম থাকবে এবং এটি সর্বোচ্চ ৭৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে চলতে পারবে। সাধারণ ডিজেল ইঞ্জিনের মতো এই ট্রেন থেকে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হবে না। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে হাইড্রোজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়, যার ফলে উপজাত বা নির্গমন হিসেবে কেবল মাত্র জলীয় বাষ্প (Water Vapor) বের হয়। ফলে এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব।
নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি: PESO ও RDSO-এর গাইডলাইন হাইড্রোজেন অত্যন্ত দাহ্য গ্যাস হওয়ায় এই প্রকল্পের সুরক্ষায় কোনো রকম আপস করছে না প্রশাসন:
- PESO-র ছাড়পত্র: পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন (PESO) ইতিমধ্যেই জিন্দ কেন্দ্রে কমপ্রেসড হাইড্রোজেন গ্যাস মজুত ও ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি লাইসেন্স মঞ্জুর করেছে।
- সার্বক্ষণিক নজরদারি: রিফুয়েলিং ব্যবস্থা সচল রাখতে একটি ব্যাকআপ বা স্ট্যান্ডবাই কমপ্রেসার ইউনিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুরো পরিকাঠামোটি ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ও বিশেষজ্ঞদের নজরদারিতে থাকবে।
- অত্যাধুনিক সেন্সর: যেকোনো ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে উৎপাদন ও ফিলিং স্টেশনে ‘হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর’ এবং ‘ফ্লেম ডিটেক্টর’ (আগুন শনাক্তকারী সেন্সর) বসানো হয়েছে, যা নিয়মিত পরিষ্কার ও অডিট করা হবে।
- প্রশিক্ষিত টেকনিক্যাল টিম: রিসার্চ ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অর্গানাইজেশন (RDSO)-এর অনুমোদিত নির্দেশিকা মেনে দিল্লির শাকুরবস্তি মেইনটেন্যান্স ফেসিলিটিতে এই ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হবে। প্রাথমিক স্তরে ট্রেন চলাচলের সময় যেকোনো যান্ত্রিক ত্রুটি এড়াতে একদল প্রশিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিক্যাল স্টাফ ট্রেনের ভেতরেই উপস্থিত থাকবেন।

