নতুন দিল্লি / ইয়াঙ্গুন
প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির সাথে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এবং আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান মজবুত করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে আসছেন মায়ানমারের রাষ্ট্রপতি মিন অং হ্লাইং। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ আমন্ত্রণে আয়োজিত এই সফরটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বর্তমান কার্যকালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ভারতের মাটিতে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই উচ্চপর্যায়ের সফরে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হবে। আলোচনার মূল বিষয়বস্তুগুলি হলো:
- সীমান্ত সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ: দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, অনুপ্রবেশ বন্ধ করা এবং যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।
- আঞ্চলিক সংযোগ (Connectivity): ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগকারী পরিকাঠামো প্রকল্প ও মহাসড়ক করিডোরগুলির কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা।
- অর্থনৈতিক সহযোগিতা: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরাসরি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি এবং নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা।
বহু-শহর সফর সূচি (Itinerary)
সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক লক্ষ্যগুলির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে রাষ্ট্রপতির এই সফরটি ভারতের তিনটি প্রধান কেন্দ্রে বিন্যস্ত করা হয়েছে: ১. বুদ্ধগয়া (৩০ মে): বিহারের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান বুদ্ধগয়া পরিদর্শনের মাধ্যমে মায়ানমারের রাষ্ট্রপতি তাঁর সফর শুরু করবেন, যা দুই দেশের প্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও গভীর সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের প্রতীক। ২. নতুন দিল্লি (১ জুন): নতুন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন রাষ্ট্রপতি হ্লাইং এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। একই দিনে তিনি একটি বিশেষ ‘বিজনেস ফোরাম’-এ অংশ নিয়ে ভারতের শীর্ষ শিল্পপতিদের সাথে মতবিনিময় করবেন। ৩. মুম্বাই (২ জুন): সফরের শেষ দিনে তিনি ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইতে পৌঁছাবেন। সেখানে দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলির সাথে বৈঠক এবং করপোরেট পরিদর্শনের মাধ্যমে তাঁর এই মেগা সফরটি সম্পন্ন হবে।

