পদ্ম পুরস্কার ২০২৬; উত্তর-পূর্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেসামরিক সম্মান এল অসমে

Padma Award Ne 2026
Padma Award Ne 2026 (PC: Social Media Sites)

রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রজাতন্ত্র মণ্ডপে মহোৎসব

অসমের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী সমাজসেবার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তের সাক্ষী থাকল দেশ। সোমবার নতুন দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের ‘প্রজাতন্ত্র মণ্ডপে’ আয়োজিত এই বছরের প্রথম বেসামরিক বিনিয়োগ অনুষ্ঠানে (Civil Investiture Ceremony) অসমের পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের হাতে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ তুলে দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় নেতৃবৃন্দ। ২০২৬ সালের জন্য রাষ্ট্রপতি মোট ১৩১টি পদ্ম পুরস্কারের অনুমোদন দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী সম্মান। এই বছরের পুরস্কার তালিকায় মূলত প্রচারের আড়ালে থাকা এবং প্রত্যন্ত উপজাতি অঞ্চলের কৃতিদের (Unsung Heroes) অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে অসমিয়া কৃতিদের অবদান এবার সবচেয়ে বেশি।

অসমের ৫ কৃতি পদ্মশ্রী প্রাপক

অসমের যে পাঁচজন গুণী মানুষকে এই অনন্য সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে, তাদের কাজের সংক্ষিপ্ত খতিয়ান নিচে দেওয়া হলো:

  • হরিচরণ শইকীয়া (শিল্পকলা): প্রবীণ সত্রীয় (Sattriya) নৃত্য বিশারদ, যিনি অসমের এই ঐতিহ্যবাহী নব্য-বৈষ্ণব ধ্রুপদী নৃত্যশৈলীকে বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দিতে জীবন উৎসর্গ করেছেন।
  • নুরুদ্দিন আহমেদ (শিল্পকলা): প্রখ্যাত ভাস্কর এবং শিল্প নির্দেশক, যিনি অসাধারণ ঐতিহ্যবাহী শিল্পশৈলী ও মণ্ডপ সজ্জার কারুকার্যের জন্য সমাদৃত।
  • যোগেশ দেউরি (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / রেশম চাষ): অসমের রেশম (Silk) শিল্পের বিশেষজ্ঞ, যাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অবদান গ্রামীণ তাঁতিদের স্বনির্ভর হতে প্রভূত সাহায্য করেছে।
  • পকিলা লেখথেপি (শিল্পকला): কার্বি লোকসংগীতের (Karbi Folk Music) একনিষ্ঠ সাধক, যিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নিজের উপজাতি সংস্কৃতির মৌখিক সুরের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
  • কবীন্দ্র পুরকায়স্থ (মরণোত্তর – জনসেবা): প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, যাঁর জনসেবা ও বরাক উপত্যকা সহ সমগ্র অঞ্চলের রাজনৈতিক উন্নয়নে আজীবন অবদানের জন্য মরণোত্তর এই সম্মান দেওয়া হলো।

উত্তর-পূর্বের অন্যান্য রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব

অসমের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের আরও বেশ কয়েকজন গুণী মানুষকে সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নিঃস্বার্থ অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয়েছে:

  • নাগাল্যান্ড: সাংয়ুসাং এস. পঙ্গেনার
  • অরুণাচল প্রদেশ: তেচি গুবিন
  • মণিপুর: যূমনম যাত্রা সিংহ
  • ত্রিপুরা: নরেশ চন্দ্র দেব বর্মা
  • মেঘালয়: হ্যালি ওয়ার
Share This Article
Exit mobile version