নয়াদিল্লি — একের পর এক যুগান্তকারী জনসভা থেকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত দশকের পর দশক ধরে চলে আসা বিজ্ঞানের সমস্ত প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছেন। দিল্লির দীর্ঘস্থায়ী পুরসভা সংক্রান্ত ও পরিবেশগত সমস্যাগুলির পেছনে যে ‘আসল’ বৈজ্ঞানিক কারণগুলি রয়েছে, তা তিনি আমজনতার সামনে তুলে ধরেছেন।
গ্রীষ্মের জলকষ্টের পেছনে বায়ুমণ্ডলের চক্রান্ত থেকে শুরু করে বাতাসে বিষ ছড়ানো “অক্সিজেন-হীন” গাছ — মুখ্যমন্ত্রীর এই নয়া আবিষ্কার দেশের বিজ্ঞানী মহল থেকে শুরু করে আমজনতা, সকলকেই তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
১. মাঝপথেই উবে যাচ্ছে জল: জলকষ্টের জলজ্যান্ত ব্যাখ্যা
দিল্লির হাজার হাজার পরিবারে প্রতি গ্রীষ্মে যে তীব্র জলসংকট দেখা যায়, তা নিয়ে এতদিন মানুষ জল মাফিয়া বা ফাটা পাইপলাইনকে দায়ী করত। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত এই সংকটের পেছনে থাকা এক মহাজাগতিক সত্য ফাঁস করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জল আসলে মানুষের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই তীব্র গরমে বাষ্পীভূত (Evaporate) হয়ে যাচ্ছে।
“মানুষ চরম জলকষ্টের মুখোমুখি হচ্ছেন। যখন এত তীব্র গরম পড়ে, তখন যে জল সরবরাহ করা হয়, তার কিছুটা অংশ মাঝপথেই বাষ্পীভূত (Evaporate) হয়ে উড়ে যায়। সেই কারণেই এই জলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।”
— মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত
এই তত্ত্বের পর দিল্লির বাসিন্দারা এখন আর বাড়ির শুকনো কলে জলের খোঁজ করছেন না। পরিবর্তে, তাঁরা বালতি হাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছেন, ঠিক কোন জায়গায় তাঁদের বাড়ির জলটি তরল অবস্থা থেকে গ্যাসে রূপান্তরিত হয়ে উড়ে গেল। বিরোধীরা অবশ্য টিপ্পনী কেটে বলেছেন, পাইপলাইনের বদলে এবার হয়তো দিল্লি সরকারকে আকাশে ‘ঘনীভবন জাল’ (Condensation Net) পাততে হবে উড়ে যাওয়া জল ধরার জন্য।
২. অক্সিজেন দেয় না বাবলা-সফেদা: উদ্ভিদবিজ্ঞানের নতুন পাঠ
মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈজ্ঞানিক গবেষণা অবশ্য শুধু জলের ওপরেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে আইআইটি দিল্লির একটি পরিবেশ প্রদর্শনীতে — যেখানে তিনি এর আগে একবার মুখ ফস্কে ‘AQI’ (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স)-কে ‘AIQ’ বলে ফেলেছিলেন — তিনি দিল্লির রাস্তার ধারের কিছু গাছের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘অকর্মণ্যতার’ অভিযোগ আনেন। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, দিল্লির রাস্তার ধারে থাকা সফেদা (ইউক্যালিপটাস), কিকর এবং বাবলা গাছগুলি আসলে “কোনো অক্সিজেনই দেয় না।”
এই বক্তব্য প্রাথমিকে শেখানো সালোকসংশ্লেষ (Photosynthesis)-এর সমস্ত নিয়মকে এক ঝটকায় ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে উদ্ভিদবিদরা এতদিন ভুল জানতেন যে, ক্লোরোফিল যুক্ত সমস্ত সবুজ গাছই কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে অক্সিজেন ছাড়ে। কিন্তু রেখা জি ধরে ফেলেছেন যে এই গাছগুলি আসলে দিল্লির সবুজায়নের বাজেটের স্রেফ অপচয় করছে। এই সমস্যার সমাধানে তিনি একটি বিশেষ ‘অক্সিজেন পার্ক’-এর শিলান্যাস করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এই অক্সিজেন-হীন গাছগুলিকে কেটে সেখানে পিপল, নিম এবং আমের মতো গাছ লাগানো হবে, যেগুলি তাঁর মতে “সত্যিই” অক্সিজেন দেয়।
বিরোধীদের রিলস বানানোর হিড়িক ও মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ
আম আদমি পার্টি (AAP) সহ বিরোধী শিবির মুখ্যমন্ত্রীর এই একের পর এক বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে হাতিয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম ও রিলস বানানোর উৎসব শুরু করে দিয়েছে। বিধানসভায় এই নিয়ে হাসাহাসি হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। রেখা গুপ্ত বলেন, “আমি একটুখানি ভুল করলেই এরা চরিত্রহনন করতে নেমে পড়ে এবং রিলস বানাতে শুরু করে।” তিনি দাবি করেন, একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন, এটা বিরোধীরা সহ্য করতে পারছে না বলেই তাঁর সামান্য মুখের ভুল বা ‘হিউম্যান এরর’-কে এভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।

