দক্ষিণ দিল্লিতে ভয়াবহ বিপর্যয়: মালবীয় নগরে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যু

21 People Have Been Declared Dead So Far In A Fire That Broke Out At A Hotel In The Indian Capital
21 People Have Been Declared Dead So Far In A Fire That Broke Out At A Hotel In The Indian Capital (PC: Social Media Sites)

দক্ষিণ দিল্লিমালবীয় নগরের হौज রানি এলাকায় বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) সকালে একটি গেস্ট হাউস এবং তার নিচে অবস্থিত রেস্তোরাঁয় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিকদর্শনে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে और ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে ধোঁয়াটে ভবন থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও যেভাবে আগুন ছড়ালো

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে ভবনের নিচতলা ও বেসমেন্টে অবস্থিত ‘লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁ’ से আগুনের सूत्रपात হয়।

  • পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রেস্তোরাঁর শেফ সকালে এসে রান্নাঘরের সেটআপ চালু করার পরপরই একটি বিকট বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায়।
  • কয়েক মিনিটের মধ্যে आग ও ঘন কালো ধোঁয়া পুরো পাঁচ তলা সরু ভবনটিতে ছড়িয়ে পড়ে, যা ‘ফ্লরিশ স্টে বিঅ্যান্ডবি’ (Flourish Stay B&B) নামে পরিচিত।
  • ভবনটিতে মাত্র একটি প্রবেশ ও বাহির পথ থাকায় এবং পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপক व्यवस्था ना থাকায় ওপরের তলায় থাকা বহু আবাসিক ভেতরেই আটকে পড়েন।

মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই বিদেশী মেডিকেল পর্যটক

সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, মৃত ২১ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে একটি বড় অংশ—কমপক্ষে ১১ থেকে ১৮ জনই বিদেশী নাগরিক।

  • নিহতদের জাতীয়তা: মৃতদের মধ্যে তুর্কমেনিস্তান, নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, লাইবেরিয়া এবং বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন।
  • আসার উদ্দেশ্য: এই বিদেশী নাগরিকরা মূলত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে নতুন দিল্লিতে এসেছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার সময় এই বিঅ্যান্ডবি হোটেলে অবস্থান করছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহসিকতা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ

ভবনটি ধোঁয়ায় ভরে গেলে আটকে পড়া আবাসিকরা বাঁচার लिए জানালার কাচ এবং অ্যালুমিনিয়ামের গ্রিল ভাঙার চেষ্টা করতে থাকেন।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “আমি চার থেকে sechs জনকে কাচ ভেঙে आग से বাঁচতে ভবন থেকে নিচে লাফ দিতে দেখেছি।”

ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা সাহসিকতার পরিচয় দেন এবং পাশের দোকান থেকে তোশক ও গদি এনে রাস্তায় পেতে দেন, যাতে তৃতীয় ও চতুর্থ তলা থেকে লাফ দেওয়া মানুষদের রক্ষা করা যায়। এক বিদেশী দম্পতি বাইরের পাইপ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করলেও হাত ফস্কে পড়ে যান; তবে মাথার ওপর থাকা বিদ্যুতের তারের কারণে তারা সরাসরি মাটিতে আছড়ে পড়া থেকে কিছুটা রক্ষা পান।

বর্তমান পরিস্থিতি, গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনিক তৎপরতা

দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করেন।

  • ভবন মালিক গ্রেপ্তার: ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই दिल्ली পুলিশ অনিচ্ছাকৃত খুন (Culpable Homicide) এবং মারাত্মক অবহেলার অভিযোগে মামলা দায়ের করে ভবনের মালিক লবকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে। বাজাজ কোনো वैध ফায়ার এনওসি (NOC) ছাড়াই এটি পরিচালনা করছিলেন।
  • এমসিডির কড়া পদক্ষেপ: মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লি (MCD) ঘোষণা করেছে যে, তারা বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণ জোনে ফায়ার সেফটি নিয়ম লঙ্ঘনকারী সমস্ত অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং অননুমোদিত গেস্ট হাউস সিল করার জন্য একটি ব্যাপক অভিযান শুরু করবে।
  • विदेश মন্ত্রকের সহায়তা: বিদেশ মন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর জানিয়েছেন যে, বিদেশ মন্ত্রক সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে এবং আন্তর্জাতিক ভুক্তভোগীদের পরিবারকে সব ধরণের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।

সরকারি ক্ষতিপূরণ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ট্র্যাজেডিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে নিহতদের পরিবারকে ₹২ লাখ এবং আহতদের ₹৫০,০০০ টাকা করে আর্থিক सहायता দেওয়ার घोषणा করেছেন।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই ঘটনায় গভীর শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন যে রাজ্য সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এই মুহূর্তে এইমস (AIIMS) ট্রমা সেন্টার ও সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করছে।

Share This Article
Exit mobile version