তিরুভাল্লুর (তামিলনাড়ু)
বর্ষার মরশুমে কোটি কোটি লিটার বৃষ্টির জল কংক্রিটের নালা দিয়ে অপচয় হয়ে যাওয়া এবং গ্রীষ্মের শুরুতে চাষের জলের জন্য হাহাকার—ভারতের গ্রামীণ জনজীবনের এই চেনা ছবিকে বদলে দিয়েছে তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলা। কোনো বড় বা ব্যয়বহুল পরিকাঠামো তৈরি না করে, শুধুমাত্র দূরদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে এক অসাধ্য সাধন করেছেন জেলার কালেক্টর প্রতাপ এম (২০১৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার)। তাঁর নেতৃত্বে তিরুভাল্লুর জেলা প্রশাসন এলাকার ১,২০০-রও বেশি শুকিয়ে যাওয়া এবং পরিত্যক্ত নলকূপকে (Borewells) সরাসরি ভূগর্ভস্থ জল রিচার্জ পয়েন্ট বা বৃষ্টির জল সংরক্ষণের আধারে রূপান্তরিত করেছে।
বিরুধুনগরের এক সাধারণ কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠা প্রতাপ এম গ্রামীণ জীবনের জলের সংকটকে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অনুধাবন করেছিলেন। যে মৃত নলকূপগুলিকে মানুষ ভূগর্ভস্থ জলস্তর শুকিয়ে যাওয়ার প্রতীক হিসেবে ধরে নিয়েছিল, সেগুলিকে সিল করে দেওয়ার বদলে অভিনব উপায়ে কাজে লাগানো হয়।
বিশেষ ফিল্টার প্রযুক্তির সাহায্যে বর্ষার জমা জলকে পরিশ্রুত করে এই পাইপগুলির মাধ্যমে সরাসরি মাটির গভীরের জলস্তরে (Aquifers) পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এই সাধারণ কিন্তু কার্যকর কৌশলের ফল মিলেছে হাতেনাতে। প্রথম বর্ষার পরেই জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর প্রায় ৫ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলস্বরূপ, গ্রামের বছরের পর বছর বন্ধ থাকা টিউবওয়েলগুলিতে আবার জল এসেছে এবং ট্যাঙ্কারের ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে চাষের জমিতে ফিরেছে সবুজ।

