চীনকে ছাড়িয়ে চাল উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম ভারত; খরিফ মৌসুমের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা

Rice Production In India
Rice Production In India (PC: Social Media Sites)

নয়াদিল্লি — বিশ্ব কৃষিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনে চীনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ভারত। খরিফ মৌসুমের চাষ শুরুর প্রাক্কালে যখন অনিয়মিত বর্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ছে, ঠিক তখনই এই গৌরব অর্জন করল দেশ। একই সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার দেশজুড়ে একটি জরুরি কৃষি পরিকল্পনা (Contingency Plan) চালু করেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় অগ্রিম অনুমান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ ফসল বছরে ভারতের চাল উৎপাদন রেকর্ড ১৫৪.০২ মিলিয়ন টনে (mt) পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর বিপরীতে, চীনের উৎপাদন প্রায় ১৪৫.২৮ মিলিয়ন টনের কাছাকাছি থমকে রয়েছে, যা ভারতকে বিশ্বের শীর্ষস্থানে নিয়ে গেছে।

উৎপাদন চিত্র ও রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান

ভারত বর্তমানে সামগ্রিক বিশ্ব চাল উৎপাদনের প্রায় ২৮% নিয়ন্ত্রণ করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ৪০%-এরও বেশি চাল রপ্তানি করে একক আধিপত্য বজায় রেখেছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশের এই রেকর্ড উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে তিনটি রাজ্য:

র‍্যাঙ্করাজ্যমোট উৎপাদন (প্রায়)জাতীয় উৎপাদনে অংশ
উত্তর প্রদেশ২০.৭৬ মিলিয়ন টন~১৩.৮২%
তেলেঙ্গানা১৭.৪৫ মিলিয়ন টন~১১.৬২%
পশ্চিমবঙ্গ১৬.০২ মিলিয়ন টন~১০.৬৬%

এছাড়াও পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা উচ্চ ফলনশীল হাব হিসেবে বিশ্ববাজারে প্রিমিয়াম বাসমতি চালের রপ্তানি বজায় রেখেছে।

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা: খরিফ কৌশল

রেকর্ড উৎপাদন সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জোর দিয়ে বলেছেন যে, সরকার কোনোভাবেই আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না। জুন-জুলাই মাসে খরিফ চাষের মরশুম শুরু হওয়ার ঠিক আগে আবহাওয়া দপ্তর এল নিনোর (El Niño) কারণে কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।

“উচ্চ ফলনশীল বীজ উদ্ভাবনের ফলে আমরা এই ঐতিহাসিক উৎপাদন স্তর অর্জন করতে পেরেছি, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়াই এখন আমাদের প্রধান প্রতিরক্ষামূলক কৌশল।”

শিবরাজ সিং চৌহান, কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী

দুর্বল মৌসুমী বায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের নতুন জরুরি পরিকল্পনা মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছে:

  • জলবায়ু-সহনশীল বীজ: ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (ICAR) দ্রুত ১৮৪টি নতুন ফসলের জাত বাজারে এনেছে। এই বীজগুলো কম সময়ে পেকে যায়, উচ্চ ফলন দেয় এবং খরা সহনশীল।
  • বাফার স্টক ব্যবস্থাপনা: ভারতে সামগ্রিক খাদ্যশস্য উৎপাদন রেকর্ড ৩৭৬.৫৬ মিলিয়ন টনের দিকে এগোচ্ছে, যার ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রেশন ব্যবস্থা (PDS) সচল রাখার জন্য সরকারের কাছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
  • বিকল্প চাষে উৎসাহ: কম বৃষ্টিপাত প্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত পানি প্রয়োজন এমন ফসলের চাষ কমিয়ে, ডাল ও তৈলবীজ জাতীয় ফসল চাষের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করছে মন্ত্রণালয়।
Share This Article
Exit mobile version