কেরল উপকূলে আছড়ে পড়ল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু; এল নিনোর প্রভাবে এ বছর স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির পূর্বাভাস আইএমডি-র

Kerala Received First Monsoon
Kerala Received First Monsoon (PC: Social Media Sites)

নয়াদিল্লি / তিরুবনন্তপুরম — ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) আজ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আজ, ৪ জুন ২০২৬-এ কেরল উপকূলে প্রবেশ করেছে। স্বাভাবিক সময়সূচীর (১ জুন) থেকে মাত্র ৩ দিন পিছিয়ে এসে এই বর্ষণ দক্ষিণ ভারতে তীব্র গরম থেকে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বর্ষার অগ্রগতি এবং বিভিন্ন রাজ্যে পৌঁছানোর সম্ভাব্য তারিখ

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনগুলিতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ষা যেভাবে অগ্রসর হবে তার একটি সময়রেখা নিচে দেওয়া হলো:

  • কেরল এবং উত্তর-পূর্ব ভারত: ৪ জুন (ইতিমধ্যেই প্রবেশ করেছে)
  • কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু: ৮ জুন – ১২ জুন
  • মহারাষ্ট্র (মুম্বই) এবং পশ্চিমবঙ্গ (কলকাতা): ১২ জুন – ১৬ জুন
  • মধ্য ভারত (মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ওড়িশা): ১৫ জুন – ২০ জুন
  • উত্তর-পশ্চিম ভারত (দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, হরিয়ানা): ২৫ জুন – ৩০ জুন

এল নিনোর প্রভাব এবং মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ

কেরলে বর্ষার আগমন স্বস্তিদায়ক হলেও, দীর্ঘমেয়াদী মরশুমী পূর্বাভাস দেশের অর্থনীতির জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইএমডি জানিয়েছে, এই বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে দেশে সামগ্রিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হবে দীর্ঘমেয়াদী গড়ের (LPA) মাত্র ৯০% অর্থাৎ, ২০২৬ সালের বর্ষা বিজ্ঞানসম্মতভাবে “স্বাভাবিকের চেয়ে কম” (Below-Normal) হতে চলেছে।

বৃষ্টিপাত কম হওয়ার মূল কারণ হলো প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো (El Niño) প্রক্রিয়া:

  • বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আবহাওয়া দ্রুত এল নিনোর দিকে মোড় নিচ্ছে। জুন-সেপ্টেম্বর মরশুমে এল নিনো সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৯২%
  • জুলাই এবং অগাস্ট মাসে এর তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে, যা ভারতীয় উপমহাদেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবাহকে দুর্বল করে দেয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

কৃষি ক্ষেত্রে প্রভাব

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বৃষ্টির বণ্টন অত্যন্ত অসমান হবে। মধ্য, পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের মূল কৃষি বলয় (Monsoon Core Zone), যা মূলত বৃষ্টির জলের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে গড়ের তুলনায় ৯৪ শতাংশের কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। একমাত্র উত্তর-পূর্ব ভারতে (Northeast India) বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক (LPA-এর ৯৪–১০৬%) থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মূল কৃষি অঞ্চলে কম বৃষ্টির কারণে খরিফ শস্য চাষের ক্ষতি হতে পারে, যা আগামী দিনে খাদ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share This Article
Exit mobile version