বেঙ্গালুরু
কর্ণাটকের রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম নাটকীয় পটপরিবর্তন ঘটে গেল। কংগ্রেসের প্রবীণতম নেতা তথা কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া তাঁর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। কংগ্রেস হাই কমান্ডের সরাসরি নির্দেশের পরেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি। হাই কমান্ডের পক্ষ থেকে তাঁকে স্পষ্ট জানানো হয় যে, উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের হাতে রাজ্যের শাসনভার ছেড়ে দেওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
জাতীয় রাজনীতিতে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার ঠিক পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিদ্দারামাইয়া স্পষ্ট জানান যে, হাই কমান্ডের নির্দেশ মেনেই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি পদত্যাগ করেছি কারণ কংগ্রেস হাই কমান্ড আমাকে পদ ছেড়ে দিতে বলেছিল। তবে, আমি জাতীয় রাজনীতিতে কোনো ধরণের ভূমিকা পালন করব না”। হাই কমান্ডের দেওয়া রাজ্যসভার আসনের অফারটিও তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কর্ণাটক বিধানসভার বিধায়ক (MLA) হিসেবেই কাজ করে যাবেন এবং শুধুমাত্র রাজ্যের রাজনীতিতেই নিজের অবদান রাখবেন।
পদত্যাগের প্রক্রিয়া ও আবেগঘন বার্তা
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে সিদ্দারামাইয়া তাঁর পদত্যাগের কথা দেশবাসীকে জানান। তিনি লেখেন, কর্ণাটকের রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট বর্তমানে রাজ্যের বাইরে থাকায়, তিনি রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের বিশেষ আধিকারিকদের হাতে তাঁর পদত্যাগপত্র তুলে দিয়েছেন। নিজের অতীত জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি আবেগঘন ভাষায় লেখেন, “একটি সাধারণ গ্রামে জন্মে এবং বড় হয়ে, আমি কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি যে আমি এই রাজ্যের শাসক, মন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা এবং দু-দুবার মুখ্যমন্ত্রী হব। এত বড় একটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পেছনে রয়েছে বাবা সাহেব আম্বেদকরের অনন্য সংবিধান”।
অন্যদিকে, কর্ণাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ডিকে শিবকুমার। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কর্ণাটকে কংগ্রেসের বিপুল জয়ের পেছনে মূল কারিগর বা ‘ট্রাবলশুটার’ ছিলেন এই শিবকুমারই। দেশের অন্যতম প্রভাবশালী এবং শক্তিশালী ওবিসি (OBC) জননেতা হিসেবে পরিচিত শিবকুমারের হাত ধরে কর্ণাটক কংগ্রেস এবার এক নতুন প্রশাসনিক যুগে পদার্পণ করতে চলেছে।

