মুম্বাই — ৩ জুন, ২০২৬ — ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (IMD) দেশের মৌসুমী বায়ুর পূর্বাভাস নিম্নমুখী করার পর বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC) জরুরি পরিকল্পনা মোডে চলে গেছে। মুম্বাইয়ের প্রধান জলাশয়গুলোতে মাত্র ৪৫ দিনের মতো ব্যবহারের পানি অবশিষ্ট থাকায়, ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত শহরের পানের পানির সরবরাহ সুরক্ষিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন পৌর কর্মকর্তারা।
জলাশয়ে ৪৫ দিনের কাউন্টডাউন
মুম্বাইয়ের সাতটি প্রধান হ্রদে মোট পানির স্টক তাদের সম্মিলিত ক্ষমতার ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা পরিমাণের দিক থেকে প্রায় ২.২১ লাখ মিলিয়ন লিটার।
- ৩-দিনের নিয়ম: বিএমসি-র পরিচালন কাঠামো অনুযায়ী, হ্রদের পানির প্রতি এক শতাংশ স্টক শহরটিকে ঠিক তিন দিনের জন্য পানি সরবরাহ করতে পারে।
- বর্তমান সময়রেখা: বর্তমান ব্যবহারের হার অনুযায়ী, মৌসুমী বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে হ্রদগুলো পুনরায় পূর্ণ না হলে এই ১৫% মজুদ আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাবে।
- বিদ্যমান পদক্ষেপ: বর্তমান মজুদকে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখার জন্য গত ১৫ মে থেকে শহরে ইতিমধ্যে ১০% বাধ্যতামূলক পানি কাটছাঁট কার্যকর করা হয়েছে।
কেন আইএমডি-র পূর্বাভাস উদ্বেগ বাড়িয়েছে
আইএমডি সম্প্রতি তার দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর পূর্বাভাস সংশোধন করে জানিয়েছে कि দেশে দীর্ঘমেয়াদী গড়ের (LPA) মাত্র ৯০ শতাংশ বৃষ্টিপাত होने की संभावना है। এটি আসন্ন মৌসুমী বায়ুর মরশুমকে “স্বল্প থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে কম” বৃষ্টিপাতের তালিকায় ফেলেছে, যা এমন একটি শহরের জন্য মারাত্মক উদ্বেগের কারণ, যা তার বাঁধগুলো পূরণের জন্য সম্পূর্ণরূপে ভারী বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল।
প্রবীণ পৌর কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, মৌসুমী বায়ুর ক্যাচমেন্ট (জলসংগ্রহ) এলাকায় যদি বৃষ্টিপাতের ঘাটতি থাকে এবং এর পাশাপাশি অক্টোবর মাসে তীব্র দাবদাহ দেখা দেয়, তবে হ্রদের পানির বাষ্পীভবন (evaporation) অনেক দ্রুত হবে। এই পরিস্থিতি ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকালে পানির তীব্র সংকটের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বৃষ্টির ওপর মুম্বাইয়ের সম্পূর্ণ নির্ভরতা
মুম্বাইকে যা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে তা হলো একটি ভালো মৌসুমী বায়ু চক্রের ওপর এর সম্পূর্ণ নির্ভরতা। পানের পানি সরবরাহের জন্য শহরের কাছে বর্তমানে কোনো বিকল্প উৎস নেই।
বাসাবাড়ি এবং বাণিজ্যিক খাতে প্রতিদিন সরবরাহ করা প্রায় ৩,৯৫০ মিলিয়ন লিটার (MLD) পানির প্রতিটি ফোঁটা সাতটি বৃষ্টি-নির্ভর হ্রদ থেকে আসে: ১. ভাতসা ২. আপার বৈতরণা ৩. মিডল বৈতরণা ৪. মোদক সাগর ৫. তানসা ৬. বিহার ৭. তুলসী
এই হ্রদগুলোর সম্মিলিত সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১৪.৪৭ লাখ মিলিয়ন লিটার, যা আগামী বছরের মৌসুমী বায়ু আসার আগে পর্যন্ত শহরকে টিকিয়ে রাখার জন্য জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে পূর্ণ হওয়া আবশ্যক।
বিএমসি-র কৌশল এবং জরুরি রোডম্যাপ
আইএমডি-র উদ্বেগজনক আপডেটের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে, বিএমসি প্রশাসন ২০২৭ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি রুদ্ধদ্বার কৌশল বৈঠক করেছে। পৌর সংস্থা বর্তমানে বেশ কয়েকটি তাত্ক্ষণিক এবং মধ্যমেয়াদী পদক্ষেপের ওপর মনোনিবেশ করছে:
- ক্যাচমেন্ট এলাকার নিবিড় পর্যবেক্ষণ: পানি কাটছাঁট বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কর্মকর্তাদের আগামী দুই-তিন মাস সাতটি হ্রদের ক্যাচমেন্ট এলাকায় বৃষ্টিপাতের তথ্য নিবিড়ভাবে ট্র্যাক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ট্যাঙ্কারের দাম এবং বিতরণ নিয়ন্ত্রণ: বিএমসি মুম্বাই জুড়ে পানির ট্যাঙ্কার ফিলিং পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার করবে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো পানির ন্যায্য বন্টন নিশ্চিত করা এবং চাহিদা বাড়ার সাথে साथে ব্যক্তিগত অপারেটরদের অতিরিক্ত দাম নেওয়া বন্ধ করা।
- জনসচেতনতা অভিযান: পৌর সংস্থা নাগরিক ও আবাসন সোসাইটিগুলোকে পানির আরও সচেতন ও সাশ্রয়ী ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়ে নির্দেশিকা ও পরামর্শ জারি করছে।
- অনুকূল বৃষ্টি বণ্টনের আশা: কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে কম মৌসুমী বায়ুর মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকট নয়। শুরুর প্রথম দুই মাসে যদি ক্যাচমেন্ট এলাকায় ভারী স্থানীয় বৃষ্টিপাত হয় এবং অতিরিক্ত পানি পরের সপ্তাহগুলোতে প্রবাহিত হয়ে যায়, তবে সামগ্রিক গড় কম হওয়া সত্ত্বেও জলাশয়গুলো পূর্ণ হতে পারে এবং কোনো সমস্যা নাও হতে পারে।

