নাগাল্যান্ডে ভয়াবহ বনক্ষয়: ১০ বছরে উধাও ৭৯৪ বর্গ কিমি জঙ্গল, কড়া বার্তা এনএসবিবি চেয়ারম্যানের

Nagaland Loses 794 Sq Km Forest Cover In Decade
Nagaland Loses 794 Sq Km Forest Cover In Decade (PC: Social Media Sites)

পেরেণ, নাগাল্যান্ড:

উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম সবুজ রাজ্য নাগাল্যান্ডের পরিবেশগত মানচিত্রে এক বড়সড় বিপর্যয়ের ছবি ধরা পড়েছে। বিগত ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে নাগাল্যান্ডের প্রায় ৭৯৪.৮৮ বর্গ কিলোমিটার বনভূমি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছেইন্ডিয়া স্টেট অফ ফরেস্ট রিপোর্ট (ISFR)-এর সাম্প্রতিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নাগাল্যান্ড রাজ্য জৈববৈচিত্র্য বোর্ডের (NSBB) চেয়ারম্যান ওয়াই কিখেতো সেমা গত শুক্রবার এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন।

পেরেণ জেলার জালুকির সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জৈববৈচিত্র্য দিবস ২০২৬ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তিনি এই বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেন। ইন্দো-বর্মা জীববৈচিত্র্য হটস্পটের অংশ নাগাল্যান্ডের সমৃদ্ধ ভেষজ উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী, নদী এবং ঐতিহ্যবাহী কৃষি সম্পদ আজ চরম বিপন্ন। সেমা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, পরিবেশ ও প্রকৃতির এই ক্ষয় এখন আর শুধু কোনো তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়, এটি বর্তমান মানব সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার (Survival issue) লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

ধারা ৩৭১এ: অধিকারের সাথে জড়িয়ে কর্তব্যও

রাজ্যের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন দপ্তরের প্রধান সচিবের দায়িত্বে থাকা ওয়াই কিখেতো সেমা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নাগাল্যান্ডের ৯৫ শতাংশেরও বেশি জমি এবং বনাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় উপজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব সম্পত্তি। এখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নামমাত্র।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭১এ (Article 371A) ধারা অনুযায়ী নাগাল্যান্ডের মানুষ প্রথাগত আইনের মাধ্যমে নিজেদের জল, জঙ্গল ও জমির ওপর একচ্ছত্র অধিকার ভোগ করেন। এই বিশেষ অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি অসমীয়া ও নাগাল্যান্ডের আপামর জনতাকে নিজেদের সম্পদ নিজেদের স্বার্থেই রক্ষা করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বন উজাড়, দূষণ, দাবানল, ক্ষয়ক্ষতি, জলসংকট এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল বন দপ্তরের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য গির্জা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছাত্র সমাজ এবং নাগরিক সমাজকে (CSOs) একসাথে কাজ করতে হবে।

তরুণ প্রজন্মকে ‘প্রকৃতির দূত’ হওয়ার আহ্বান

পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয় স্তরের ছোট ছোট পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক বর্জন, জল সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণী রক্ষা করার মাধ্যমে বৈশ্বিক পরিবেশ বিপর্যয় রোখা সম্ভব। তিনি রাজ্যের ছাত্র ও তরুণ প্রজন্মকে দৈনন্দিন জীবনে সচেতনতা বাড়াতে এবং স্থানীয় জৈব সম্পদের সঠিক খতিয়ান রাখতে গ্রামীণ স্তরে পিপলস বায়োডাইভারসিটি রেজিস্টার (PBR) তৈরিতে সাহায্য করার আহ্বান জানান, যাতে প্রতিটি তরুণ হয়ে উঠতে পারে এক একজন ‘প্রকৃতির দূত’ (Ambassadors of Nature)।

Share This Article
Exit mobile version