ওয়াশিংটন ডি.সি.: মিজোরামের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এক বড় পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যের একমাত্র রাজ্যসভা সাংসদ কে. বনলালভেনা। ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের (World Bank) সদর দফতরে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন তিনি। মিজোরামের পার্বত্য ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উপযোগী একাধিক পরিকাঠামো উন্নয়ন, নগর পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং গ্রামীণ জীবিকা প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংকের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
বিশ্বব্যাংকের সদর দফতরে আয়োজিত এই বৈঠকে ভারত, বাংলাদেশ এবং ভুটানের কাজকর্ম দেখাশোনা করেন এমন চারজন শীর্ষস্থানীয় আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (Executive Director) পরমেশ্বরন আইয়ার। মিজোরামের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিকূলতাকে জয় করে কীভাবে গ্রামীণ মানুষের স্থায়ী জীবিকা ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটানো যায়, তা নিয়েই মূলত বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশ্বব্যাংকের কাছে পেশ করা প্রধান প্রস্তাবসমূহ
সাংসদ কে. বনলালভেনা মিজোরামের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বা ব্লুপ্রিন্ট পেশ করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলি হলো:
- বহুমুখী বৃষ্টির জল সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting): পাহাড়ি অঞ্চলে জলের সংকট দূর করতে এবং গ্রামীণ জল ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত করতে বড় ও মাঝারি স্তরের বৃষ্টির জল সংরক্ষণের বহুমুখী প্রকল্প গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- বাঁশ-ভিত্তিক শিল্পের বিকাশ: মিজোরামে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ বাঁশ সম্পদকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বড় ও ছোট মাপের সমন্বিত বাঁশ শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রযুক্তিগত সাহায্য চাওয়া হয়েছে।
- কৃষি ও বন-ভিত্তিক শিল্পের আধুনিকীকরণ: গ্রামীণ যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন ব্যবস্থার মানোন্নয়ন (Value-added production) এবং কৃষকদের বাজার সংযোগ সহজ করতে কৃষি ও বন-ভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্পে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
- আইজল শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ: রাজ্যের রাজধানী আইজল শহরের তীব্র যানজট সমস্যা দূর করতে এবং পথচারীদের যাতায়াত সহজ করতে আর্বান ফ্লাইওভার (Urban Flyovers) নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ চালিত পোর্টেবল আউটডোর সিঁড়ি (Solar-powered portable outdoor stairways) বসানোর অভিনব পরিকল্পনা পেশ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ইতিবাচক মনোভাব
বৈঠক শেষে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, মিজোরামের এই সামগ্রিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা। এই বিশ্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতে, পেশ করা প্রস্তাবগুলি উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি ভৌগোলিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং উপযোগী। বিশ্বব্যাংক দল ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আগামী আঞ্চলিক তহবিল বরাদ্দ মূল্যায়নের (Funding Assessments) আওতায় এই প্রকল্পগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।

