সিবিএসই (CBSE) পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হলো খাসি ও গারো ভাষা

Cbse Introduce Garo And Khasi To Curriculum
Cbse Introduce Garo And Khasi To Curriculum (PC: Social Media Sites)

আঞ্চলিক ভাষা সংরক্ষণে বড় জয়

মেঘালয়ের উপজাতি সংস্কৃতির বিকাশ ও সংরক্ষণে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)। বোর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক ‘স্কিম অফ স্টাডিজ’-এ এখন থেকে খাসি এবং গারো ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সিবিএসই-র অফিশিয়াল ওএসআইএস (OASIS) পোর্টালে এই দুই ভাষাকে যথাক্রমে ৪৬ এবং ৪৭ নম্বর ক্রমিকে স্থান দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সিবিএসই অনুমোদিত যেকোনো স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই দুটি ভাষাকে ঐচ্ছিক তৃতীয় ভাষা (Third Language) হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই পদক্ষেপটি মূলত জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) এবং ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক (NCF)-এর নির্দেশিকা মেনে নেওয়া হয়েছে, যেখানে পড়াশোনায় মাতৃভাষার ব্যবহার এবং বহুভাষিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সমস্যার অবসান

সিবিএসই-র সংশোধিত তিন-ভাষা নীতির (Three-Language Formula) কারণে সম্প্রতি মেঘালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বোর্ডের প্রাথমিক তালিকায় ৪৪টি ভাষা থাকলেও সেখানে খাসি বা গারো ভাষার উল্লেখ ছিল না। ফলস্বরূপ, জওহর নবোদয় বা কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের মতো সিবিএসই স্কুলের স্থানীয় পড়ুয়ারা ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে নিজেদের ভাষার বদলে সংস্কৃত বা অন্য ভাষা পড়তে বাধ্য হচ্ছিলেন, যা তাদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করছিল।

মেঘালয় রাজ্য সরকার এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় শিক্ষা দপ্তরে চিঠি পাঠায়। মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা সরাসরি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর সাথে আলোচনা করার পর বোর্ড কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই ওমিশন বা ত্রুটি সংশোধন করে ভাষা দুটিকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব

মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে “অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক” বলে বর্ণনা করেছেন। এর ফলে রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত প্রভাব পড়তে চলেছে:

  • ১০০টিরও বেশি স্কুলের পরিকাঠামো বদল: মেঘালয়ের ১০০টিরও বেশি সিবিএসই অনুমোদিত স্কুল এখন খাসি ও গারো ভাষায় পঠনপাঠন পরিচালনা করতে পারবে।
  • ভাষাশিক্ষকদের কর্মসংস্থান: কেন্দ্রীয় বোর্ডে এই ভাষার পঠনপাঠন চালু হওয়ায় রাজ্যের বহু যোগ্য ভাষাশিক্ষকের স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
  • অষ্টম তফসিলের দাবি জোরালো: জাতীয় স্তরের এই বড় প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে (Eighth Schedule) খাসি ও গারো ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মেঘালয়ের দীর্ঘদিনের দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে।
TAGGED:
Share This Article
Exit mobile version