ঐতিহ্যের ১০০ বছর উদযাপন
গারো হিলসের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান তুরা নাট্য সমিতি-র গৌরবময় পথচলার ১০০ বছর পূর্ণ হলো। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রাখতে তুরা-র লোয়ার বাবুপাড়ায় আয়োজিত শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা। ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি গত এক শতাব্দী ধরে এই অঞ্চলে নাটক, থিয়েটার এবং সমাজ সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে আসছে।
মুখ্যমন্ত্রী প্রদীপ প্রজ্বলন, একটি স্মারক ফলক উন্মোচন এবং আকাশে বেলুন উড়িয়ে বছরব্যাপী চলতে থাকা এই শতবর্ষ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। সমবেত শিল্পী ও সুধী সমাজকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তুরা নাট্য সমিতি কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি “আমাদের ঐতিহ্যের অভিভাবক এবং ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী”। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ভারতের স্বাধীনতা এবং পরবর্তীকালে আধুনিক মেঘালয় রাজ্য গঠনের প্রতিটি পর্বের সাক্ষী থেকেছে এই প্রতিষ্ঠান।
পরিকাঠামো উন্নয়নে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুমোদন
নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সুবিধার্থে এবং এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানকে আরও আধুনিক রূপ দিতে মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার বিশেষ আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেন। এই অর্থ দিয়ে মূলত একটি নতুন কমিউনিটি হল নির্মাণ এবং সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সহায়তার ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের তরুণ প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধনের মাধ্যমে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে সংস্কৃতি
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সংস্কৃতির অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যে উন্নয়ন আমাদের নিজস্ব আত্মপরিচয়কে মুছে দেয়, তা কখনোই প্রকৃত উন্নয়ন হতে পারে না।” এই উদ্দেশ্যে মেঘালয় সরকারের নেওয়া বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা তিনি উল্লেখ করেন:
- মেঘালয় গ্রাসরুট মিউজিক প্রজেক্ট: এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের ৭,০০০-এরও বেশি স্থানীয় শিল্পীকে প্রতি পারফরম্যান্সের জন্য ৮,০০০ থেকে ৫০,000 টাকা পর্যন্ত সাম্মানিক দেওয়া হচ্ছে।
- নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: রাজ্যের সৃজনশীল ক্ষেত্রকে মজবूत করতে শিলং-এ একটি বিশ্বমানের ফিল্ম ইনস্টিটিউট এবং তুরা-তে একটি মিউজিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হচ্ছে।
এই বিশেষ অনুষ্ঠানে নাট্য সমিতির সদস্যদের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী স্বাগত সঙ্গীত, উপজাতি নৃত্য এবং ভারতের সংহতিকে তুলে ধরে বিভিন্ন আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আলোক রায়।

