ইম্ফল / নতুন দিল্লি:
মণিপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এক বড়সড় রণকৌশলগত সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। রাজ্যের হিংসা কবলিত এবং পাহাড়ি অঞ্চলে মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) সেন্ট্রাল রিজার্ভ पुलिस ফোর্সের (CRPF) বিশেষ জঙ্গল ওয়ারফেয়ার উইং—কোবরা (CoBRA – কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ফর রেজোলিউট অ্যাকশন)-এর দুটি ব্যাটালিয়ন পাঠানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
২০২৩ সালের মে মাস থেকে চলা মৈতেই এবং কুকি-জো সম্প্রদায়ের জাতিগত সংঘাতের পর এই প্রথমবার ভারতের এই এলিট গেরিলা যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ বাহিনীকে মণিপুরের মাটিতে নির্দিষ্ট অপারেশনের জন্য পাঠানো হচ্ছে।
আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরছে বাহিনী
সরকারি নথির তথ্য অনুযায়ী, গ্রাউন্ড জিরোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এই দুটি রাজ্য থেকে কোবরা জওয়ানদের স্থানান্তরিত করা হচ্ছে:
- ২০৭ নম্বর কোবরা ব্যাটালিয়ন: এই বাহিনী পশ্চিমবঙ্গ থেকে মণিপুরে পৌঁছাবে।
- ২১০ নম্বর কোবরা ব্যাটালিয়ন: এই এলিট ইউনিটটি আসাম থেকে মোতায়েন করা হচ্ছে।
প্রতিটি ব্যাটালিয়নে প্রায় ১,০০০ জন করে উচ্চ প্রশিক্ষিত জওয়ান রয়েছেন, যারা গভীর জঙ্গলে কমব্যাট অপারেশন ও ইন্টেলিজেন্স-ভিত্তিক অভিযানে অত্যন্ত পটু। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বাহিনী মণিপুরের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অবস্থান নেবে এবং শান্তি বিঘ্নিতকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ শুরু করবে।
মাওবাদী দমনের পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন মিশন
২০০৮-০৯ সালে মূলত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মাওবাদী ও নকশালের মতো লেফট-উইং এক্সট্রিমিজ্ম (LWE) বা বামপন্থী চরমপন্থা দমনের উদ্দেশ্যে এই কোবরা ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। বর্তমানে দেশে এর ১০টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে, যার সিংহভাগই ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড বা ওড়িশার মতো গভীর বনাঞ্চলে মাওবাদী দমন অভিযানে যুক্ত ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে মাওবাদী সহিংসতা এবং নাশকতামূলক কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় এই বিশেষ এলিট সুরক্ষাবলকে এখন মণিপুরের মতো নতুন চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্রে পুনর্নিযুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নকশাল অধ্যুষিত রাজ্যগুলিতে মাওবাদী কার্যকলাপ এখন মূলত ল্যান্ডমাইন বা আইইডি (IED) খোঁজা এবং সাধারণ এলাকা সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ চলে এসেছে। ফলস্বরূপ, দেশের অন্যান্য সক্রিয় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই বিশেষ বাহিনীকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র।

