Kaziranga National Park: পাখিদের স্বর্গরাজ্য কাজিরাঙা, দেশের ৪৫% শিকারী পাখির আশ্রয়স্থল এই অরণ্য

Raptor Diversity And Rare Storks
Raptor Diversity And Rare Storks (PC: Social Media Sites)

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা অনুযায়ী, কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক ভারতের অন্যতম প্রধান পক্ষী অভয়ারণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যেখানে দেশের ৪৫% শিকারী পাখি ও বিরল সারসের বাস।

গুয়াহাটি — ভারতের অন্যতম প্রধান পক্ষী অভয়ারণ্য বা পাখিদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান এবং ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প। সাম্প্রতিক একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, এই সুরক্ষিত বনাঞ্চলটি সমগ্র ভারতে পাওয়া আটটি সারস (স্টর্ক) প্রজাতির মধ্যে ছয়টি প্রজাতিকে ধারণ করে। এর পাশাপাশি, ভারতের মোট শিকারী পাখি বা খেচর শিকারী (র‌্যাপ্টর) বৈচিত্র্যের প্রায় ৪৫ শতাংশেরই বাসভূমি এই উদ্যান।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এই সমীক্ষার চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসের মধ্যে আসামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং বিশেষজ্ঞ গণনাকারীদের যৌথ উদ্যোগে এই মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা চালানো হয়েছিল, যা পূর্ব আসাম বন্যপ্রাণী বিভাগের অধীনস্থ সমস্ত প্রশাসনিক রেঞ্জ কভার করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও প্রজাতির বিন্যাস

সমীক্ষার রিপোর্টে হাইলাইট করা হয়েছে যে, কাজিরাঙা বিশ্বব্যাপী বিপন্ন এবং পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাখি যেমন শকুন, ইগল, সারস এবং পেঁচাদের জন্য একটি অত্যন্ত নিরাপদ বাসস্থান। এই বৈজ্ঞানিক শুমারিতে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য উঠে এসেছে:

  • শিকারী পাখি (র‌্যাপ্টর): সমীক্ষায় ৩০টি ভিন্ন প্রজাতির শিকারী পাখির মোট ২১৭টি দর্শন (সাইটিংস) নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘হিমালয়ান গ্রিফন ভালচার’ (শকুন) সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে, ‘বুটেড ইগল’ এবং ‘হোয়াইট-টেইলড ইগল’-এর মতো প্রজাতিগুলি পুরো সমীক্ষাকালে মাত্র একবারই দেখা গেছে।
  • সারস (স্টর্ক): ছয়টি প্রজাতির সারসের মোট ২৬৬টি পাখি গণনা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ‘এশিয়ান ওপেনবিল’ (শামুকখোল) সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় পাওয়া গেছে এবং চরম বিপন্ন প্রজাতির ‘গ্রেটার অ্যাডজুট্যান্ট স্টॉर्क’ (হাড়গিলে) সবচেয়ে কম সংখ্যায় দেখা গেছে।

পাল্লাস ফিশ ইগলের আন্তর্জাতিক প্রজনন কেন্দ্র

এই সমীক্ষার একটি অন্যতম প্রধান দিক হলো, কাজিরাঙা বর্তমানে ‘পাল্লাস ফিশ ইগল’ (Pallas’s Fish Eagle)-এর ভারতের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, যেখানে দেশের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সক্রিয় বাসা বা নেস্টিং সাইট রয়েছে। এর আগে ২০২০ সালে ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার (WII) একটি মূল্যায়নে এখানে ১০টি সক্রিয় বাসার সন্ধান মিলেছিল।

তাছাড়া, স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, কাজিরাঙার এই পাল্লাস ফিশ ইগলগুলি কাজিরাঙা এবং মধ্য মঙ্গোলিয়ার মধ্যে দীর্ঘ পথ পরিযায়ী যাতায়াত করে, যা এর আন্তর্জাতিক পরিবেশগত গুরুত্বকে প্রমাণ করে।

সংরক্ষণ বিধি ও বন দপ্তরের বক্তব্য

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, কাজিরাঙার জলাভূমি (wetlands), তৃণভূমি এবং নদীমাতৃক বনাঞ্চলের এক অপূর্ব মিশ্রণ এই শিকারী পাখি ও সারসদের বাসা তৈরি এবং শিকারের জন্য এক আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। এর সাথে বিশ্বনাথ এবং নগাঁওয়ের পার্শ্ববর্তী বন বিভাগগুলিও এই পক্ষী বৈচিত্র্য রক্ষায় অবদান রাখছে।

যেহেতু এখানে নথিবদ্ধ অধিকাংশ পাখিই ভারতের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইন, ১৯৭২-এর তফশিল ১ (Schedule I)-এর অধীনে আইনত সুরক্ষিত, তাই পরিবেশবিদরা বিদ্যুতের লাইনে শক লেগে মৃত্যু এবং বাসা ধ্বংসের মতো স্থানীয় হুমকিগুলি কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন। বন আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য কাজিরাঙাকে শুধু গণ্ডার বা বাঘের মতো বড় পশুর জন্য নয়, বরং পাখিদের আন্তর্জাতিক আশ্রয়স্থল হিসেবেও বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে।

Share This Article
Exit mobile version