উত্তর-পূর্বের দুই বিপরীত চিত্র
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স গ্রেডিং ইনডেক্স (PGI) ২.০ রিপোর্ট (শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২৫) অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব ভারতের স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থার দুটি চরম বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে। দুই প্রতিবেশী রাজ্য অসম এবং মেঘালয় পারফরম্যান্সের বিচারে দেশের দুই প্রান্তে অবস্থান করছে।
একদিকে, অসম বিগত বছরের ৫১১.৫ নম্বরের খতিয়ান ঝেড়ে ফেলে এক লাফে ৮২ পয়েন্টের বেশি উন্নতি নিশ্চিত করেছে। ১,০০০ নম্বরের মধ্যে ৫৯৩.৬ স্কোর করে অসম এখন দেশের অন্যতম দ্রুত উন্নতি করা রাজ্য হিসেবে ‘প্রচেষ্টা-৩’ (Prachesta-3) গ্রেড অর্জন করেছে। ঠিক এর বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে মেঘালয় স্কোর করেছে মাত্র ৪৪৮, যা তাকে সমগ্র ভারতের মধ্যে সর্বনিম্ন র্যাঙ্কড বা সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া রাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দেশের একমাত্র রাজ্য হিসেবে মেঘালয় এই সূচকের সর্বনিম্ন ধাপ অর্থাৎ ‘আকাঙ্ক্ষী-৩’ (Akanshi-3) ব্যান্ডে অবস্থান করছে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রের তুলনামূলক খতিয়ান
এই সূচকে যে সমস্ত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নম্বর দেওয়া হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করলে দুই রাজ্যের প্রশাসনিক ও গুণগত ফারাক স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
- লার্নিং আউটকাম (শিক্ষণ বা মূল্যায়নের ফলাফল – মান ২৪০): শিক্ষার গুণগত মান বিচারের এই প্রধান ক্ষেত্রে অসম যেখানে ৭৯.৪ স্কোর করেছে, সেখানে মেঘালয় পেয়েছে উত্তর-পূর্বের মধ্যে সর্বনিম্ন মাত্র ৪৭.২।
- গভর্নেন্স বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া (মান ১৩০): প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে অসম ‘উত্তম-৩’ গ্রেড পেয়ে মহারাষ্ট্র বা ওড়িশার মতো জাতীয় স্তরের অগ্রণী রাজ্যগুলির সারিতে জায়গা করে নিয়েছে। সেখানে মেঘালয় ১৩০-এর মধ্যে পেয়েছে মাত্র ৪০.৫।
- স্কুল পরিকাঠামো ও শিক্ষক শিক্ষণ: পরিকাঠামো ক্ষেত্রে মেঘালয়ের ঝুলিতে এসেছে ১৯০-এর মধ্যে মাত্র ৬২.১ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে ১০০-র মধ্যে মাত্র ৪৬.৭।
উত্তর-পূর্ব ভারতের সামগ্রিক পরিস্থিতি
অসম ও মেঘালয়ের এই বিশাল ব্যবধান বাদ দিলে, উত্তর-পূর্বের অন্যান্য রাজ্যগুলি আগের বছরের তুলনায় অন্তত এক ধাপ করে গ্রেড উন্নত করতে সক্ষম হয়েছে:
- সিকিম (৬০৩.৩ নম্বর): ‘প্রচেষ্টা-৩’ গ্রেড পেয়ে সিকিম সামগ্রিকভাবে এই অঞ্চলে সবচেয়ে ভালো স্কোর করেছে এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১১২.৩ নম্বর পেয়েছে।
- ত্রিপুরা (৫৫৯ নম্বর) ও মণিপুর (৫৫৭ নম্বর): দুই রাজ্যই নিজেদের পারফরম্যান্স বজায় রেখে এক ধাপ ওপরে উঠে এসেছে।
- মিজোরাম (৫০৭.৯ নম্বর): ৯১ শতাংশের বেশি সাক্ষরতার হার থাকা সত্ত্বেও মিজোরাম রয়েছে ‘আকাঙ্ক্ষী-২’ ব্যান্ডে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল উচ্চ সাক্ষরতার হার থাকলেই স্কুলের বাস্তব পরিকাঠামো বা আধুনিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা মজবুত হয় না।
শিক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, পূর্বোত্তর অঞ্চলে গুণগত মান ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে খামতি থাকলেও, সামগ্রিকভাবে রাজ্যগুলির পারস্পরিক ব্যবধান ২০১৭-১৮ সালের ৫১% থেকে কমে ২০২৪-২৫ সালে ৩৯.৪%-এ নেমে এসেছে, যা কেন্দ্রের ‘লুক ইস্ট’ পলিসির সুফলকে প্রতিফলিত করে।

