টেস্টঅ্যাটলাসের সেরা ১০০-র তালিকায় প্রথম স্থান; বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল আসাম ও দার্জিলিং

Indian Masala Chai
Indian Masala Chai (PC: Social Media Sites)

আন্তর্জাতিক ফুড ডেস্ক

বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক ফুড ও ট্রাভেল গাইড TasteAtlas-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষায় প্রমাণিত হলো সেই ধ্রুব সত্য, যা প্রতিটি ভারতীয় প্রতিদিন সকালে অনুভব করেন—ভারতের ঐতিহ্যবাহী ‘মসলা চা’ (Masala Chai) আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সেরা চায়ের খেতাব অর্জন করেছে। টেস্টঅ্যাটলাসের “টপ ১০০ চা” (Top 100 Teas in the World) তালিকায় বিশ্বের সমস্ত নামী ব্র্যান্ড ও ভ্যারাইটিকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে ভারত। একই সাথে আসামের কড়া মাল্টি ফ্লেভারের চা এবং দার্জিলিংয়ের সুগন্ধি চা বিশ্বমঞ্চে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে।

এই র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তি ও মূল্যায়ন পদ্ধতি

টেস্টঅ্যাটলাস কোনো মনগড়া তালিকা তৈরি করে না। এই তালিকাটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক এবং তথ্যভিত্তিক।

  • এটি বিশ্বজুড়ে কয়েক লক্ষ ভোজনরসিক, আন্তর্জাতিক ফুড ক্রিকিট বা খাদ্য সমালোচক এবং রন্ধন বিশেষজ্ঞদের দেওয়া রেটিং এবং মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।
  • র্যাঙ্কিংয়ে যাতে কোনো দেশের মানুষ কৃত্রিমভাবে ভোট বাড়াতে না পারে (Nationalistic Bias) বা কোনো রোবট (Bot) ব্যবহার না করা হয়, তার জন্য একটি অত্যন্ত উন্নত এআই (AI) ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। ফলে শুধুমাত্র প্রকৃত ও সৎ রিভিউগুলোর বিচারেই এই স্কোর নির্ধারিত হয়েছে।

বিশ্বের সেরা তালিকার শীর্ষে ভারতের যে যে চা স্থান পেল:

ভারতের বৈচিত্র্যময় চা সংস্কৃতির ৬টি অনবদ্য রূপ এই তালিকায় স্থান পেয়েছে:

  • মসলা চা (র্যাঙ্ক ১): কড়া লিকার চায়ের সাথে দুধ, চিনি এবং আদা, এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি ও গোলমরিচের মতো খাঁটি ভারতীয় মসলার এক অপূর্ব মিশ্রণ, যা মন ও শরীরকে মুহূর্তের মধ্যে চাঙ্গা করে তোলে।
  • দার্জিলিং টি (র্যাঙ্ক ৬): হিমালয়ের পাদদেশে উৎপাদিত এই চায়ের হালকা সোনালী রঙ এবং অনন্য ফুলের মতো সুগন্ধ (Muscatel flavor) একে বিশ্বজুড়ে চায়ের ‘শ্যাম্পেন’ হিসেবে পরিচিত করেছে।
  • আসাম চা (র্যাঙ্ক ১৩): অত্যন্ত কড়া, গাঢ় এবং একটি বিশেষ আর্দি বা মাটির সোঁদা গন্ধযুক্ত (Malty flavor) এই চা ব্ল্যাক-টি প্রেমীদের বিশ্বব্যাপী প্রথম পছন্দ।
  • সুলাইমানি চা, কেরালা (র্যাঙ্ক ৩৯): পুদিনা ও লেবুর রস সহযোগে তৈরি দক্ষিণ ভারতের এক চমৎকার ওষধি চা।
  • কাংড়া টি, হিমাচল প্রদেশ (র্যাঙ্ক ৪১): হিমালয়ের কোলে ছোট ছোট পারিবারিক বাগানে উৎপাদিত প্রিমিয়াম চা।
  • নুন চা, জম্মু ও কাশ্মীর (র্যাঙ্ক ৪৩): কাশ্মীর উপত্যকার ঐতিহ্যবাহী নোনতা স্বাদের গোলাপি রঙের চা, যা বেকিং সোডা ও পেস্তা বাদাম দিয়ে তৈরি হয়।

আসামের গৌরব: হালমারি টি এস্টেট

টেস্টঅ্যাটলাসের এই তালিকায় বিশ্বসেরা চা বাগানগুলোর নামও প্রকাশ করা হয়েছে। আসামের ডিব্রুগড়ে অবস্থিত শতবর্ষ প্রাচীন ‘হালমারি টি এস্টেট’ (Halmari Tea Estate)-এর তৈরি ‘হালমারি গোল্ড আসাম’ চা ৫.০-এর মধ্যে ৫.০ পারফেক্ট গ্লোবাল স্কোর অর্জন করে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও গুণগত মানের দিক থেকে সেরা চায়ের খেতাব পেয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের কার্শিয়াংয়ের ১৮৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের প্রথম জৈব চা কারখানা ‘মকাইবাড়ি টি एস্টেট’ (Makaibari Tea Estate)-এর ‘সিলভার টিপস ইম্পেরিয়াল’ চাও এই এলিট তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

Share This Article
Exit mobile version