১,২৭০ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর পাশে বিজেপি, পদত্যাগের গুজব খারিজ

Chief Minister Of Arunachal Pradesh Prema Khandu
Chief Minister Of Arunachal Pradesh Prema Khandu (PC: Social Media Sites)

ইটানগর — অরুণাচল প্রদেশে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য শাখা মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কিছু ডিজিটাল নিউজ পোর্টালে ছড়ানো তাঁর পদত্যাগের খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে দল। এই প্রতিবেদনগুলোকে “ভুয়ো, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মনগড়া” আখ্যা দিয়ে ক্ষমতাসীন দল স্পষ্ট করেছে যে, রাজ্যের নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ এবং পেমা খাণ্ডুর ওপরেই দলের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

সরকারি কাজের চুক্তি বা ঠিকাদারি বণ্টনে কথিত দুর্নীতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (CBI) একটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করার পরেই এই রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়।

সংকটের মূল উৎস: ১,২৭০ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলা

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় সিবিআই (CBI)-কে প্রাথমিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে শুরু করে।

  • অভিযোগসমূহ: স্থানীয় নাগরিক সমাজ এবং কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (NGO) সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে অভিযোগ তোলে যে, রাজ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে রাজ্যের প্রায় ১,২৭০ কোটি টাকার গণপূর্ত (PWD) বিভাগের কাজের চুক্তি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বা তাঁদের সাথে যুক্ত সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল।
  • সরকারের আত্মপক্ষ সমর্থন: যদিও রাজ্য সরকারের দাবি, সমস্ত চুক্তি উন্মুক্ত দরপত্র (Open Tender) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখেই বণ্টন করা হয়েছিল, তবুও শীর্ষ আদালত এই বণ্টনের আসল সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেছে। বর্তমানে সিবিআই-এর প্রাথমিক তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।

ক্রমবর্ধমান চাপ: সায়া (SAYA) এবং এসিএস (ACS)-এর পদত্যাগের দাবি

সিবিআই তদন্তের অগ্রগতি হওয়ার সাথে সাথেই স্থানীয় ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনগুলো—বিশেষ করে সায়া (Siang Anto Youth Association – SAYA) এবং অরুণাচল সিভিল সোসাইটি (ACS)—তাদের রাজনৈতিক আন্দোলন জোরদার করেছে।

বিক্ষোভ সমাবেশ এবং গণ-প্রচারণার মাধ্যমে এই সংগঠনগুলো মুখ্যমন্ত্রী पेমা খাণ্ডুর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। তাদের নেতৃত্বের যুক্তি হলো, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত সিবিআই তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের প্রধান নির্বাহী শাসককে তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।

পদত্যাগের খবরকে “ভুয়ো নিউজ” বলে উড়িয়ে দিল বিজেপি

উইকএন্ডে আসাম-ভিত্তিক একটি নিউজ পোর্টাল দাবি করে যে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব খাণ্ডুকে দিল্লিতে তলব করেছে এবং তাঁকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তীব্র হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি কলিং মোয়ং, দলীয় মুখপাত্র মহেশ চই এবং সাধারণ সম্পাদক তদার নিগলার ইটানগরে দলের সদর দফতরে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে ঘোষণা করেন।

“মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর পদত্যাগ নিয়ে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনো সত্যতা নেই। এই ধরণের গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর উদ্দেশ্য হলো জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং অরুণাচল প্রদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা।” — কলিং মোয়ং, রাজ্য বিজেপি সভাপতি

বিজেপির সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্য:

  • সম্পূর্ণ একতা: দল নিশ্চিত করেছে যে রাজ্যের সমস্ত ৪৬ জন বিজেপি বিধায়ক পেমা খাণ্ডুর নেতৃত্বের পেছনে ঐক্যবদ্ধভাবে রয়েছেন। দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
  • আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা: বিজেপি জানিয়েছে যে তারা বিচার ব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। যেহেতু এটি কেবল একটি প্রাথমিক তদন্ত এবং এখনও কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি, তাই পদত্যাগের কোনো কারণ নেই। তবে মোয়ং যোগ করেন, “যদি সুপ্রিম কোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো রায় দেয়, তবে দল সেই সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
  • দিল্লি থেকে কোনো নির্দেশ নেই: দলের মুখপাত্র মহেশ চই নিশ্চিত করেছেন যে তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে কথা বলেছেন এবং হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো নির্দেশ বা সমন আসেনি।

আইনি পদক্ষেপ ও কড়া হুঁশিয়ারি

গুজব ছড়ানোর বিষয়টিকে হালকাভাবে না নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা (BJYM)-এর ইটানগর জেলা শাখা সেই ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে ইটানগর থানায় একটি এজাহার (FIR) দায়ের করেছে, যারা প্রথম এই ভুয়ো খবরটি প্রকাশ করেছিল। এর পাশাপাশি, বিজেপি সাধারণ সম্পাদক তদার নিগলার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি দলের কোনো অভ্যন্তরীণ কর্মী বা সদস্য এই ধরণের ভুয়ো তথ্য বাইরে ছড়ানোর কাজে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধেও অবিলম্বে কঠোর শৃঙ্খলামূলক ও আইनी ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share This Article
Exit mobile version