গান্ধীনগর / গির সোমনাথ:
এশীয় সিংহের একমাত্র বাসস্থান গুজরাটের গির অরণ্যে এক বড়সড় স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে বাবেশিয়া (Babesiosis) নামক একটি মারাত্মক টিক-বাহিত (পোকাবাহিত) পরজীবী সংক্রমণের কারণে আটটি সিংহ শাবকের মৃত্যু হয়েছে। গুজরাটের বনমন্ত্রী অর্জুন মোধওয়াডিয়া জানিয়েছেন, এই রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় আরও ১৭টি সিংহকে উদ্ধার কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা বা আইসোলেশনে রাখা হয়েছে এবং তাদের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বাবেশিয়া রোগ আসলে কী?
বাবেশিয়া হলো এক ধরণের প্রোটোজোয়া পরজীবী যা মূলত টিক বা চিলতা (Ticks) নামক পোকার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, তবে সিংহরা সামাজিক বন্যপ্রাণী হওয়ায় একে অপরের সংস্পর্শে আসার সময় এই সংক্রামিত পোকাগুলি এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এর লক্ষণগুলি হলো:
- তীব্র জ্বর এবং চরম শারীরিক দুর্বলতা
- কাশি এবং নাক দিয়ে তরল নির্গত হওয়া
- লোহিত রক্তকণিকা (RBC) ধ্বংস হওয়া, যার ফলে প্রাণঘাতী অ্যানিমিয়া দেখা দেয়
বর্তমান পরিস্থিতি ও বন দপ্তরের পদক্ষেপ
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের জরুরি বৈঠকের পর বন দপ্তর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে। চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন জয়পাল সিং জানিয়েছেন যে, ২৮ মে-র পর থেকে নতুন করে কোনো সিংহ শাবকের মৃত্যু বা সংক্রমণের খবর মেলেনি এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: যে এলাকায় এই সংক্রমণ দেখা দিয়েছে (গির গধড়া এবং বাবরা কোট), তার চারপাশের ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সমস্ত সিংহকে আইসোলেট করা হয়েছে। অরণ্যের সিংহ এবং স্থানীয় গৃহপালিত পশুদের শরীর থেকে এই সংক্রামিত ‘টিক’ বা পোকা দূর করার জন্য একটি বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
২০১৮ সালের মহামারীর আশঙ্কা
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ডঃ স্তোত্র চক্রবর্তী এবং রবি চেল্লাম জানিয়েছেন যে, প্রচণ্ড গরম এবং আর্দ্রতার কারণে এই সময়ে টিক-এর উপদ্রব বাড়ে। বাবেশিয়া রোগটি তখনই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ নেয় যখন এটি ক্যানাইন ডিস্টেম্পার ভাইরাস (CDV)-এর সাথে যুক্ত হয়। ১৯৯৪ সালে আফ্রিকার সেরেঙ্গেটিতে এবং ২০১৮ সালে গিরে এই দুটি রোগের যৌথ আক্রমণে বহু সিংহের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৫ সালের সর্বশেষ শুমারি অনুযায়ী, গুজরাটে বর্তমানে ৮৯১টি এশীয় সিংহ রয়েছে। এই বিরল প্রজাতির সুরক্ষায় বন দপ্তর সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছে।

